সময়ের মধ্যে দিতেই হবে মজুরি, শ্রম কোড আইনের বিজ্ঞপ্তি জারি কেন্দ্রের
বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সময়ে দিতে হবে নির্ধারিত মজুরি। এব্যাপারে একদিনও দেরি করা যাবে না। প্রধানত বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসের মজুরি প্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের কথা ভেবে এহেন নির্দেশিকা জারি করেছে অর্থমন্ত্রক। এসংক্রান্ত বিষয়ে অবিলম্বে শ্রমমন্ত্রককে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার রাতেই চার শ্রম কোড আইন কার্যকর সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। এর ফলে শ্রমিক, কর্মচারীদের সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। যদি কোনো শ্রমিক কিংবা কর্মচারী সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন, তাহলে ওই কর্মীকে তাঁর নির্ধারিত মজুরির দ্বিগুণ দিতে বাধ্য থাকবে মালিকপক্ষ। আইন কার্যকরের ফলে মহিলা শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির পরিমাণ ১২ সপ্তাহ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ সপ্তাহ হবে। এমনকি পুরুষ ও মহিলা শ্রমিকরা সম কাজে সম মজুরিই পাবেন। শ্রমিক, কর্মচারীদের মজুরি প্রদানের ব্যাপারে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে অর্থমন্ত্রক। বলা হয়েছে, দৈনিক মজুরি প্রাপ্তদের টাকা শিফট শেষ হওয়া মাত্রই মিটিয়ে দিতে হবে। যাঁরা প্রতি সপ্তাহে মজুরি পান, তাঁদের তা মিটিয়ে দিতে হবে ওই সপ্তাহের ছুটি শুরুর আগেই। পাক্ষিকভাবে যেসব শ্রমিক, কর্মচারীকে মজুরি দেওয়া হয়, তাঁদের ওই পক্ষ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ দু’দিনের মধ্যে পারিশ্রমিক মিটিয়ে দিতে হবে। যাঁরা প্রতি মাসে বেতন পান, তাঁদের মাস শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ সাতদিনের মধ্যে টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। নগদের পরিবর্তে প্রধানত ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার অথবা অন্য কোনো ই-পেমেন্ট পদ্ধতিতেই মজুরি মেটানোর কথা বলা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের পর তা লিখিতভাবে ‘প্রিন্সিপাল এমপ্লয়ার’কে জানাতে বাধ্য থাকবে ঠিকাদার সংস্থাগুলি। এমনই জানানো হয়েছে অর্থমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশিকায়।
কেন্দ্রের এহেন বিজ্ঞপ্তি জারির প্রতিবাদে সরব হয়েছে সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। দিল্লিতে শনিবার এই ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে সিটু। সামগ্রিকভাবেও সর্বভারতীয় ১০টি ডান ও বাম শ্রমিক সংগঠন এর বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছে। মোদি সরকারের বিরোধিতায় বিবৃতি জারি করেছে সিপিএম পলিটব্যুরোও। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র একক সিদ্ধান্তে এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে না। প্রত্যেকটি রাজ্যকে এব্যাপারে আলাদাভাবে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইন চালু করতে হবে।