• মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ শীর্ষ আদালতের, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি সম্পর্কে কুমন্তব্য
    বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুরের পর এক বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু, বীরাঙ্গনা কর্নেল সোফিয়া কুরেশির বিরুদ্ধে বিজেপি নেতার কুকথার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মধ্যপ্রদেশ সরকার। এই নিয়ে তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। ভর্ৎসনার সুরে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ‘যথেষ্ট হয়েছে।’ শনিবার  প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, সওয়াল-জবাবের জন্য আর সময় দেওয়া হবে না। মন্ত্রী বিজয় শাহের বিরুদ্ধে চার সপ্তাহের মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে। 

    গত ১৯ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানেই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ দু’সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু, মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এদিন শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, এবার সমস্ত নির্দেশ পালন করুন।  

    সওয়াল-জবাবের সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, মন্ত্রীর ওই মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। পরে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। তার পরেই বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মন্ত্রীর কোনো অনুশোচনাও নেই। এরপরই মধ্যপ্রদেশ সরকারকে দুষে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। সেইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, এই মামলায় মধ্যপ্রদেশ সরকার ও অভিযুক্ত মন্ত্রীর তরফে আর হলফনামা জমা নেওয়া হবে না। 

    অপারেশন সিন্দুরের সময় কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে ‘জঙ্গিদের বোন’ বলে অভিহিত করেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী। তারপরই বিজয়ের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও পৌছয়। গত বছর ২৮ জুলাই মন্ত্রীকে ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। কর্নেলের বিরুদ্ধে ওই মন্তব্যের পরও বিজয় কেন ক্ষমা চাননি, সেই প্রসঙ্গ টেনে আদালত চড়া সুরে বলে, আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। এরপরই তিন জন আইপিএসকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। চলতি বছরই তাদের রিপোর্ট জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু, সেইমতো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এদিন ভর্ৎসনার মুখে পড়ল মধ্যপ্রদেশ সরকার। ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তাদের চার সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। 
  • Link to this news (বর্তমান)