চণ্ডীগড়: নির্বাচনি প্রচারের মঞ্চে নগদ অর্থ, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, রাস্তাঘাট, এলাকা উন্নয়ন থেকে শুরু করে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন নেতা-মন্ত্রীরা। গদিতে বসার পর তার কতটা পূরণ হয়, তা নিয়েও বিতর্কের অন্ত নেই। তবে হরিয়ানা পুরসভা নির্বাচনের প্রচারে এক অভিনব প্রতিশ্রুতির হদিশ মিলল। হরিয়ানার রেওয়াড়িতে বিজেপির এক জনসভায় তখন কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক ভিড়। এদিক-ওদিক থেকে স্লোগান ভেসে আসছে। এমন সময় মঞ্চ থেকে পাতৌদির বিজেপি বিধায়ক বিমলা চৌধুরীর আশ্বাসবার্তা— ‘অবিবাহিত ভাই ও বন্ধুরা শুনে রাখুন। এবারের পুরসভা নির্বাচনে যদি বিজেপি জেতে, তাহলে সকলের বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’ ততক্ষণে হাসিতে ফেটে পড়েছে গোটা জনসভা। নেত্রীর নামে স্লোগানও শুরু হয়েছে। তবে এমন অদ্ভুত প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে হরিয়ানা রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। রাজ্যে লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়টিও ফের মাথাচাড়া দিয়েছে।
সম্প্রতি দলীয় প্রার্থী বিনীতা পিপ্পলের সমর্থনে রেওয়াড়ির জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন বিধায়ক বিমলা চৌধুরী। সেখানে তিনি বলেন, ‘আপনাদের একটাই অনুরোধ, বিনীতাকে ভোট দিয়ে জয়ী করুন। আমি কথা দিচ্ছি এখানকার সব অবিবাহিত পুরুষের বিয়ের ব্যবস্থা করব। শুধু আপনাদের আশীর্বাদ চাই।’ মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন হরিয়ানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরতী রাও। হালকা মেজাজে তাঁর সংযোজন, রেওয়াড়িতে ‘ম্যারেজ ব্যুরো’ খুলে ফেলেছেন বিধায়ক। আশা করি তিনি কথা রাখবেন।
যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের কথায়, এই মন্তব্য হরিয়ানার লিঙ্গবৈষম্য, কন্যাভ্রূণ হত্যা সহ একাধিক বিষয়কে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এর আগে ২০১৪ সালে একই ধরনের মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ধনকার।