তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে শিলিগুড়ির প্রবীণ বিজেপি কর্মী মাখনলাল সরকারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন তাতে উচ্ছ্বসিত শিলিগুড়িবাসী। শনিবার সকাল থেকেই তাঁর বাড়িতে ভিড় জমে যায় প্রতিবেশীদের। স্বামীর এই সম্মানে আপ্লুত স্ত্রী পুতুল সরকার, ছেলে মানিক সরকার। আড়ষ্ট কণ্ঠে স্বামীর এদিন এতবড় সম্মান পাওয়ার ঘটনায় রীতিমতো খুশি পুতুলদেবী। একসময় প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ডাবগ্রাম সূর্যনগরের মাইকেল স্কুলের পাশের বাড়িতে এসেছিলেন। নির্বাচনের আগে শমীক ভট্টাচার্য বাড়িতে এসেছিলেন। এসেছেন দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে একাধিক নেতা।
শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষকে ‘বাড়ির ছেলে’ বলে সম্বোধন করেন পুতুলদেবী। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা আকছার এই বাড়িতে বর্ষীয়ান এই নেতার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। ক্ষমতায় না থাকা সত্ত্বেও রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা শিলিগুড়িতে এলেই তাঁর এই বাড়িতে এসেছেন।
পুতুলদেবী বলেন, সালটা ঠিক মনে নেই। তবে বাংলাদেশ থেকে বিয়ের তিন বছরের মধ্যেই আমরা শিলিগুড়িতে চলে আসি। শিলিগুড়িতে থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে তিনি যোগ দেন। সেই সময় একসঙ্গে পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক কাজ চালিয়ে গিয়েছেন সগৌরবে। কখনও দলের কাজে বাড়ির বাইরে থাকতে হলে সেই সময় মোবাইল ফোন না থাকায় লোক মারফত খবর পাঠাতেন। অবসর সময়ে বাড়িতে থাকলে দুই ছেলে ও চার মেয়েকে নিয়েই থাকতেন। তিনি সংসারকেও অবহেলা করেননি পাশাপাশি রাজনৈতিক দলকেও সময় দিয়েছেন। এই কারণেই আমি তাঁকে রাজনৈতিক কাজে বাধা দিইনি। দিনের পর দিন নিজের দল জিতবে এই আশাতে বুক বাঁধতেন তিনি। দলীয় কর্মীদেরকে বারবার উৎসাহিত করেছেন একদিন সুদিন আসবে। এই বিশ্বাসেই তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে উৎসাহ জুগিয়ে গিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, লোকসভা হোক বা বিধানসভা, ফলাফলের দিন সকাল থেকেই টিভির সামনে বসে থাকতেন মাখনলালবাবু। ফলাফল আশানুরূপ না হলে মন খারাপ করতেন, তবে তা প্রকাশ করতেন না। এদিন সেই দিন আসায় তিনি অত্যন্ত খুশি। পুতুলদেবী বলেন, যে অনুভূতি বর্তমানে আমার হচ্ছে তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। সারাজীবন এই দিনটির জন্য আমার স্বামী অপেক্ষা করেছেন। এদিন সেই আশা পূরণ হল। বড় ছেলে মানিক সরকার বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে, বাবা তা দেখে যেতে পারলেন এটাই সব চাইতে বড় পাওয়া। সারাজীবন তাঁর মুখ থেকে আশার কথাই শুনে গিয়েছি।
প্রতিবেশীরাও এই ঘটনায় রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। এলাকার বাসিন্দা গণেশ মৈত্র বলেন, মাখনলালবাবু আমাদের শিলিগুড়ির নাম সারা দেশে উজ্জ্বল করে দিয়েছেন। আমরা এতে খুবই খুশি। এক বাসিন্দা বিপ্লবী তালুকদার বলেন, আমরা ভাবতেই পারিনি এমন ঘটনা ঘটতে পারে। বিজেপি তথা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে আমাদের এলাকার প্রবীণ এই নেতাকে সম্মান জানিয়েছেন, তাতে আমরা আপ্লুত।