নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও আসানসোল সংবাদদাতা, কাটোয়া: নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের দিন উচ্ছ্বাসে ভাসল দুই বর্ধমান। মিষ্টিমুখ, আবির খেলা চলতে থাকে। পূর্ব বর্ধমানের মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতেও এবার বিজেপি ধস নামিয়ে দিয়েছে। তাই এই জেলায় উচ্ছ্বাসের ছবি ছিল অন্যরকম। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে অনেক জায়গায় জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হয়। বর্ধমানে জেলা পার্টি অফিস গমগম করছিল। এছাড়া রায়না, জামালপুর, কাটোয়া, কালনা সহ বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ছিল উৎসবের মেজাজ।
বিরোধী শূন্য পশ্চিম বর্ধমান জেলা। জেলার ন’টি বিধানসভা আসনেই জয়লাভ করেছেন বিজেপি প্রার্থীরা। স্বাভাবিক কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ব্রিগেডে শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে জেলাজুড়ে উদ্দীপনার ছবি দেখা যায়। শনিবার ভোর থেকে বিজেপি নেতা- কর্মীরা ট্রেনে করে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। ট্রেনের মধ্যেই কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আসানসোল থেকে কুলটি, দুর্গাপুর সর্বত্র একই চিত্র সামনে আসে। বহু কর্মী গাড়িতেও কলকাতা যান। কর্মীদের শপথ অনুষ্ঠান দেখানোর জন্য বাসের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। আসানসোলে বিজেপির পার্টি অফিসের সামনে মিষ্টি বিলি করা হয়। নিয়ামতপুরে বিজেপি কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিজেপি নেতা টিঙ্কু ভর্মা বলেন, আজ আমাদের খুশির দিন। সেকারণে মিষ্টি বিলি করা হয়েছে। বার্নপুরেও মিষ্টি বিলি করা হয়। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রতি বিধানসভা থেকে ৭০০ জন কর্মীকে ব্রিগেডের পাশ দেওয়া হয়েছে।
রবীন্দ্র জয়ন্তীতে বিজেপির প্রথম সরকার গঠন ঘিরে রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে গেরুয়া শিবিরের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। দুর্গাপুর স্টেশন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিজেপি নেতৃত্বের উদ্যোগে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা বিজয় উৎসবে শামিল হন। সাধারণ মানুষের মধ্যে ঝালমুড়ি, লাড্ডু ও ঠান্ডা পানীয় বিলি করা হয়। পাশাপাশি গেরুয়া আবির খেলায় মেতে ওঠেন কর্মীরা। শুধু তাই নয়, বাসস্ট্যান্ডের অস্থায়ী ছাউনিতে এলইডি স্ক্রিন লাগানো হয়।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, সকলের পক্ষে ব্রিগেডে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই এখানেই দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজেপি কর্মী সোনু সাউ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন বলে অনেকের ঝাল লেগেছিল। বাংলায় এই প্রথম বিজেপি সরকার গড়ল। তাই আনন্দের দিনে সকলের মধ্যে ঝালমুড়ি বিলি করলাম।
কাটোয়া, আউশগ্রামেও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কাটোয়া শহরে পুরসভার সামনেই কাছারি রোডে জায়ান্ট স্ক্রিনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান দেখানো হয়। কাটোয়ার বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষের সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মানুষ কালকাতায় যান। কাটোয়া ৪নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সূর্যদেব ঘোষ বলেন, আগে আমাদের ব্রিগেড যাওয়ার জন্য বাস পেতাম না। আর এখন বাস মালিকরা স্বেচ্ছায় বাস পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এদিন বিকালে শাঁখারিপট্টি এলাকায় ঝালমুড়ি খাওয়ানো হয়। আউশগ্রামের বিজেপি নেতা পতিতপাবন হালদার বলেন, আগে ব্রিগেড যেতে কর্মীদের ভয় লাগত। এখন ভয়মুক্ত পরিবেশ। বিধায়ক কলিতা মাঝি মানুষের কাজ করবেন।