নিজস্ব প্রতিনিধি,আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: আসানসোলের ঘরের মেয়ে ব্রিগেডে শপথ নিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে। যাকে আদর্শ করে ফ্যাশন ডিজাইনিং ছেড়ে রাজনীতিতে আসা অগ্নিমিত্রা পলের। এদিন নতুন বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে আবেগ তাড়িত ছিল আসানসোলবাসী। বার্নপুরের খ্যাতনামা চিকিৎসক অশোক রায়ের কন্যা অগ্নিমিত্রার বেড়ে ওঠা আসানসোলেই। বাবা, মা শপথ অনুষ্ঠানে গেলেও বাড়ির সামনে উচ্ছ্বাসে মাতলেন তাঁর পরিচিতরা। আসানসোল দক্ষিণ তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানের বার্নপুর বাটা মোড়ে জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয়েছে এলাকার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর শপথ অনুষ্ঠান। তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার পারদ চড়ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার পরই শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের তৃতীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পল। একমাত্র মহিলা হিসাবে এদিন পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে তিনি শপথ নিয়েছেন। দপ্তর বণ্টন বিকাল পর্যন্ত না হলেও জল্পনা রয়েছে তিনি উপ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। পাশাপাশি পেতে পারেন শিল্প, বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। তা বাস্তবায়িত হলে শুধু আসানসোল নয়, শিল্পাঞ্চল জুড়েই আশার সঞ্চার হবে। বঙ্গ বিজেপি থেকে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অত্যন্ত গুডবুকে রয়েছেন অগ্নিমিত্রা।
এদিন শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, শুভেন্দু পাশে তাঁকে দেখা যায়। নতুন ক্যাবিনেটে তিনিই হয়তো হবেন সেকেন্ড ইন কমান্ড। এই অবস্থায় আসানসোলবাসী স্বপ্ন বুনছে ঘরের মেয়ের হাত ধরেই হয়তো আসানসোল, দুর্গাপুরে নতুন শিল্প গড়ে উঠবে। বিনিয়োগ আসবে। যা নিয়ে বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
আসানসোল যে অগ্নিমিত্রার কত প্রিয় তা ফুটে উঠেছিল ‘বর্তমান’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও। তিনি বলেছিলেন,‘আমি অন্য কোনো আসনে দাঁড়াতে চায়নি। আমি চেয়েছি আসানসোলের ভোটে লড়তে। এখানকার মানুষের সুখ দুঃখের ভাগিদার হতে। গরিব মানুষ বাড়ি পাচ্ছে না,পানীয় জল পাচ্ছে না। তাঁদের সমস্যা সমাধান করব। তাঁর দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে শিল্পাঞ্চল।
তিনি আসানসোলের নামজাদা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন। তারপর ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করে বলিউডের প্রতিষ্ঠিত হন। শ্রীদেবী থেকে মিঠুন সকলের ফ্যাশনের দায়ভার ছিল তাঁর কাঁধে। তাঁর বিয়ে হয় কলকাতার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবারে। দুই পুত্রকে নিয়ে সুখী, সমৃদ্ধ সংসার। সেই অবস্থাতেই নরেন্দ্র মোদির আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে আঙ্গিনায় আসেন। উল্কা গতিতে তাঁর উত্থান রাজনীতিতে। ২০২১ সালে বিধায়ক, ২০২৬ সালে মন্ত্রী। এই উত্থান কাহিনি চোখের সামনে দেখেছেন তাঁর বাবা অশোকবাবু। কলকাতা থেকে তিনি জানান, আমাদের কাছে এটা বড়ো গর্বের। আমাদের বিশ্বাস মানুষের সেবায় আমার মেয়ে একশো শতাংশ উদ্যোগ নেবে। ও মন্ত্রী হিসাবেও সফল হবে।’ মা অপর্ণা রায় বলেন, আমি গর্বিত।
শনিবার যখন শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে তখন দুর্গাপুরের গোপালমাঠে টিভির পর্দায় চোখ মনোরঞ্জন রায় ও স্বপ্না রায়ের। স্বপ্না রায় অগ্নিমিত্রার ‘অন্যমা’। হ্যাঁ এই নামেই নিজের জেঠিমাকে ডাকেন অগ্নিমিত্রা পল। জেঠা মনোরঞ্জন রায় এখন দুর্গাপুরে থাকলেও আগে দু’টি পরিবারই আসানসোলে থাকত। মনোরঞ্জনবাবু বলেন, আমাদের পরিবার অরাজনৈতিক পরিবার। ওই আমাদের পরিবারের প্রথম নেত্রী। সে এখন মন্ত্রী। • নিজস্ব চিত্র