• চন্দ্রনাথ খুনে ‘বিনিয়োগ’ কার, কীভাবে পৌঁছল খুনিদের কাছে? জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা
    বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: ভোটের ফল ঘোষণার পরে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় কে ‘বিনিয়োগ’ করেছিল, তার খোঁজ করছেন তদন্তকারীরা। সেই সুত্র ধরেই খুনের মূল পরিকল্পনাকারীর কাছে পৌঁছতে চাইছেন তাঁরা। তাঁদের অনুমান, হাওলা করে অগ্রিম টাকা পাঠানো হয়েছে । একইসঙ্গে খুনের ষড়যন্ত্রে কারা কারা রয়েছে এই ট্রেল ধরে তা উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

    চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তে নেমে সিটের তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন, এর জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করা হয়েছে। চার শার্প শুটারকে ‘ভাড়া’ করতেই আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরসঙ্গে লজিস্টিকাল সাপোর্ট দিতে আরও টাকা লেগেছে। সব মিলিয়ে ‘বিনিয়োগ’এর অঙ্ক ৭০ লক্ষের কাছাকাছি বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই বিপুল টাকা কোনো সাধারণ   ব্যক্তির পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এর পিছনে বড় এক মাথা রয়েছে। তদন্তকারীদের মাথায় এখন ঘুরপাক খাচ্ছে, এত টাকা কোথা থেকে এলো এবং কী ভাবে ভাড়াটে খুনিদের কাছে পৌঁছল? প্রাথমিকভাবে তাঁদের ধারণা, কালো টাকা এখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এরজন্য অনেক আগে থেকেই টাকা জোগাড়ের কাজ চলছিল।  তবে এই টাকা অন্তত তিনটি থেকে চারটি হাত ঘুরে পৌঁছেছে ভাড়াটে খুনিদের ‘মাথা’র কাছে। এই টাকা পাঠানোর জন্য হাওলা ব্যবসায়ীদের কাজে লাগিয়েছে পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। সেই কারণে ভিন রাজ্যে হাওলার টাকা পাঠানোর কারবারে যুক্ত, এমন ব্যক্তিদের খোঁজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা, এক্ষত্রে টাকা সরাসরি ঝাড়খণ্ড ও বিহারের কন্ট্রাক্ট কিলারদের কাছে হাওলা ব্যবসায়ীরা পৌঁছে দেয়নি। এই টাকা রিসিভ করেছিল ‘মাথা’র কোনো শাগরেদ। টাকা পাওয়ার পর গাড়ি, বাইক কেনা হয়েছে। অস্ত্র জোগাড় করা হয়েছে এই টাকায়। কেনাকাটার এই ‘মানি রুট’ চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। যাতে সেই সুত্র ধরেই একদিকে খুনের পরিকল্পনা এবং অন্যদিকে সুপারি কিলারদের ‘মাথা’কে চিহ্নিত করা যায়। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)