পশ্চিমবঙ্গে সম্পত্তি কর আদায়ের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা চালুর জন্য তদবির মোদি সরকারের
বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পঞ্চায়েত এবং পুরসভাগুলির নিজস্ব আয় বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়ার কথা আগাগোড়াই বলে এসেছে কেন্দ্র। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রেও অন্যতম মানদণ্ড ছিল নিজস্ব আয় বা ‘ওন সোর্স রেভিনিউ’ বৃদ্ধি। যা আশানুরুপ না হওয়ায় এক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনও। চলতি অর্থবর্ষ থেকে এই অর্থ কমিশন শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠিত হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গকেও সম্পত্তি কর আদায়ের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় শামিল করার কথা জানিয়ে দিল নয়াদিল্লি।
গত ৪ ও ৫ মে দিল্লিতে ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশন এবং গ্রাম পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান তৈরি সংক্রান্ত বিশেষ কর্মসূচি চলে। পশ্চিমবঙ্গ সহ সব রাজ্যের প্রতিনিধি সেখানে যোগ দেন। জানা গিয়েছে, দিল্লিতে বৈঠক চললেও ৪ তারিখ সবার নজর ছিল পশ্চিমবঙ্গের দিকে। ওই দিন দুপুরেই রাজ্যে পালাবদল স্পষ্ট হয়ে যায়। মূল আলোচনার ফাঁকে আধিকারিকদের আলাপচারিতায় বারবার উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের প্রসঙ্গ। সূত্রের খবর, তখনই এরাজ্যে লাগু না হওয়া বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং সেই সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা চালুর জন্য তদবির করার কাজটা সেরে ফেলেন কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। প্রথমত, গ্রামীণ এলাকায় সম্পত্তি কর আদায়ের জন্য কেন্দ্রের ‘সমর্থ’ পোর্টাল চালু করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের নিজস্ব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে গ্রামীণ এলাকা এবং পুরসভার সম্পত্তি কর আদায় ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কিন্তু, ‘সমর্থ পঞ্চায়েত পোর্টাল’ চালু হলে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি পোর্টালের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্যের পোর্টাল রাজ্যস্তরের আধিকারিক, বড়োজোর মন্ত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কেন্দ্রীয় পোর্টাল চালু হলে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কর আদায়, বকেয়া সহ যাবতীয় খুঁটিনাটির ‘মনিটরিং’ সম্ভব হবে দিল্লি থেকেই। পোর্টালের মাধ্যমেই সরাসরি অনলাইনে কর জমা দিয়ে দিতে পারবেন করদাতারা। জিআইএস ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে এই কর আদায় ব্যবস্থাপনা চালু হলে নিজস্ব আয় বৃদ্ধির বিষয়টিও সুনিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও, এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেশ কিছু ক্ষেত্রে রাজ্যের অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্য অর্থ কমিশনের বরাদ্দকে অন্তর্ভুক্ত করে অংশীদারিত্বের হিসাব হবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। সূত্রের খবর, আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের মতামত জানতে চেয়েছে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। তাদের মতামতের উপর নির্ভর করছে ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশন সংক্রান্ত গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ‘অপারেশনাল গাইডলাইন’ জারির বিষয়টি। গ্রাম পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান বা জিপিডিপি তৈরির ক্ষেত্রে ‘পাই’ ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে বলেও রাজ্যকে জানানো হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির প্রস্তাবিত কাজের তালিকা এআই’র মাধ্যমে পর্যালোচনা করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে একটি স্কোর বা পয়েন্ট দেবে। স্কোর খারাপ হলে আগের প্রস্তাবিত পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজের তালিকা পুনর্বিবেচনা করে নতুন করে জমা দেওয়ার সুবিধা পাবে পঞ্চায়েতগুলি। আরও জানা গিয়েছে, ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের অধীনে মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশের বেশি সড়ক নির্মাণে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে কেন্দ্র। সড়ক নির্মাণের জন্য অন্যান্য প্রকল্প থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পরে বলে মনে করা হচ্ছে।