বাম, অতিবাম সহ সমস্ত বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে একজোট হওয়ার ডাক মমতার
বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবীন্দ্রজয়ন্তী থেকে নতুন লড়াই শুরু করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাকে রক্ষা করার শপথ নিলেন তিনি। ঘটনাচক্রে যেদিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিয়েছেন, সেদিনই মমতা বিজেপি বিরোধী দলগুলির কাছে এক জোট হওয়ার আবেদন জানালেন। এমনকি সিপিএমের সঙ্গে হাত মেলাতেও তিনি যে রাজি, সেটাও জানিয়ে দিলেন কালীঘাটের নিজের বাড়ির উঠোন দাঁড়িয়ে।
শনিবার সকালে ব্রিগেড ময়দানে রাজ্যের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল। বিকেলে কালীঘাটের নিজের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুষ্ঠান থেকেই মমতা বলেন, চারিদিকে বিজেপির সন্ত্রাস চলছে। ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সকলের উচিত ভয় না পেয়ে এক জোট হওয়া। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক সেরে শুভেন্দু অধিকারী শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের বাসভবনে। বাম সহ অবিজেপি দলগুলিকে জোট বাঁধার জন্য মমতার আহ্বান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য রাজনীতিতে যিনি (মমতা) অপ্রাসঙ্গিক, তাঁর সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করব না।
ঠিক এরপরই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আবেদন করেন, আসুন আমরা এক জোট হই। বিজেপির বিরুদ্ধে জোট বাঁধুন। একটি যৌথ মঞ্চ বা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হোক, যেখানে সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, এনজিও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাধারণ মানুষ থাকবেন। বাম অতিবাম সবাইকে নিয়েই চলতে আমার কোনো অসুবিধে নেই। আমার কোনো ইগো নেই। জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও একজোট হওয়া দরকার। এখন সময় হল আমাদের প্রধান শত্রু বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার। তৃণমূল নেত্রীর আবেদন, প্রতিদিন বাড়িতে বিকেলে চারটে থেকে ছ’টা পর্যন্ত থাকবে। কেউ যদি আলোচনার জন্য আসতে চান জানাবেন। মমতার প্রস্তাব প্রসঙ্গে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, বিজেপিকে রুখতে হবে, এ নিয়ে সন্দেহ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় সকলে কেন আসবে? ওঁর গোটা বাহিনী তো এখন বিজেপি! উনিই বিজেপিকে বাংলায় এনেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ ছিল বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরানো। গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সব শক্তিকে এক করে বিজেপিকে ঠেকাতে বামপন্থীরাই দায়িত্ব নেবে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস তৃণমূলের বিরুদ্ধে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছে। যদিও সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীরা বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূলের পাশেই আছেন, সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কেননা বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ এনে মমতাকে ফোন করেছিলেন সোনিয়া, রাহুল, মল্লিকার্জুন খাড়গে। আইনি পরামর্শের জন্য সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন কপিল সিম্বল, অভিষেক মনু সিংভিরা। এছাড়াও অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, উদ্ধব ঠাকরে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেও মমতার কথা হয়েছে। এদিন মমতার কালীঘাটের বাড়ির সামনে মোটর সাইকেলে সওয়ার একদল বিজেপি সমর্থককে জয় শ্রীরাম ধ্বনি সহ নানা স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খান। পরে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নির্বাচনি পরবর্তী হিংসায় আহত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে একটি ফান্ড বা তহবিল গঠন করছেন মমতা। যার আইনি বিষয় দেখবার জন্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মমতার আবেদন, যে যার সাধ্যমত সহযোগিতা করবেন।