নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দল গঠনের পরে তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবার বিরোধী দলনেতা। শনিবার রাতে বিরোধী দল তৃণমূলের তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে দুই মহিলা বিধায়ককে বিধানসভায় দলের ডেপুটি লিডার করল জোড়াফুল শিবির। তাঁরা হলেন ধনেখালির অসীমা পাত্র ও চৌরঙ্গির নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের মুখ্য সচেতক হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।
অন্যদিকে, দলের কর্মীদের মনোবল শক্ত রেখে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী এবং আপসহীন বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে তৃণমূল।’ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ উঠছে। এই প্রেক্ষাপটেই কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘আমি তৃণমূলের প্রত্যেক সমর্থক ও কর্মীকে আহ্বান জানাচ্ছি, এই কঠিন সময়ে আপনারা মনোবল অটুট রাখুন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকুন। যদি কেউ হিংসা, ভীতি প্রদর্শন বা হুমকির শিকার হয়ে থাকেন, আপনাদের বিস্তারিত তথ্য আমার সঙ্গে শেয়ার করুন অথবা আমাকে সরাসরি মেসেজ করুন।’ একই সঙ্গে তৃণমূলের দাবি, কমবেশি ১০০টি বিধানসভা আসনে অনৈতিকভাবে তাদের হারানো হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে বুথের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি করেছিলেন অভিষেক। এবার তিনি জানান,
ভোট গণনা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ইভিএম রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থানান্তর, কন্ট্রোল ইউনিটের তথ্যে অসামঞ্জস্য—এমন একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে। অভিষেকের বক্তব্য, ‘আমি ইতিমধ্যে গণনা কেন্দ্রগুলির সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ভিভিপ্যাট স্লিপের স্বচ্ছভাবে গণনার দাবি জানিয়েছি।’
অন্যদিকে, কোহিনুর মজুমদার, ঋজু দত্ত এবং কার্তিক ঘোষকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় আগেই তাঁদের শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছিল। শনিবার তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়।