• জয়ের ব্যবধান ছাপিয়ে ভোট পেল ‘নোটা’! হার-জিতের ‘ফ্যাক্টর’ নিয়ে চর্চা সাতগাছিয়ায়, ক্যানিং পশ্চিমে কোনো প্রার্থীকে পছন্দ করেননি ২৩৬৮ জন
    বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যজুড়ে বিজেপির জয়জয়কারে কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাতগাছিয়া কেন্দ্রে। তবে তাকপরও এই কেন্দ্রের ফলাফলে বিশেষত্ব রয়েছে। জেলার মধ্যে সাতগাছিয়া কেন্দ্রেই সবথেকে কম ব্যবধানে জিতেছে বিজেপি। তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ব্যবধান মাত্র ৪০১ ভোটের। তৃণমূলের গড়ে তাদের এই পরাজয়ের কারণ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। তার মধ্যেই সামনে এল চমকপ্রদ তথ্য। দেখা যাচ্ছে, এই কেন্দ্রে হার-জিতে বড়ো ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে ‘নোটা’। কারণ, জয়ের ব্যবধান যা, তার থেকে অনেকটা বেশি ভোট পড়েছে ‘নোটা’য়। কোনো প্রার্থীকেই পছন্দ হয়নি, তাই ‘নোটা’য় ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রের ১৬৫৪। বিজেপি ও তৃণমূল উভয়ের দাবি, এই ভোট কিছুটা এদিক-ওদিক হলেই ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। বিশেষ করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আক্ষেপ, কেন ‘নোটা’র কিছু ভোট তাদের দিকে এল না!

    এই বিধানসভার গণনায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল টানটান উত্তেজনা। কখনও তৃণমূল প্রার্থী  সোমাশ্রী বেতাল এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তো কখনও বিজেপির অগ্নীশ্বর নস্কর। শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করেন পদ্ম প্রতীকের প্রার্থী। এই সূত্রেই ফলাফল পরবর্তী সময়ে ভোট নিয়ে যাবতীয় চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘নোটা’র প্রাপ্ত ভোট। জেলার বাকি কেন্দ্রগুলিতে হার-জিতের ব্যবধান তুলনামূলক বেশি থাকায় সেখানে ‘নোটা’র প্রাপ্ত ভোট খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ হয়নি। কিন্তু সাতগাছিয়া বিধানসভায় নোটাই ফারাক গড়ে দিল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইভিএমে ১৬৪৩ জন ভোটার ‘নোটা’য় ভোট দিয়েছেন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে এই বিভাগে ভোট পড়েছে ১১টি। জেলার মধ্যে ‘নোটা’য় সর্বাধিক ভোট পড়েছে ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে। এখানে ২৩৬৮-র বেশি ভোটার কোনো প্রার্থীকেই ভোট দেননি। এরপরই রয়েছে গোসাবা। এই কেন্দ্রে ২২২১ জন ভোটার  কোনো প্রার্থীকেই পছন্দ করেননি। জেলায় নোটায় এই বিভাগে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে সাগর কেন্দ্রে। এখানে ৬০০ জন ভোটার কাউকে ভোট দেননি।  তবে শহরকেন্দ্রিক যেসব বিধানসভা রয়েছে, তার মধ্যে যাদবপুর, কসবা, সোনারপুর দক্ষিণ, বজবজের মতো কেন্দ্রে দু’হাজারের কাছাকাছি ভোট পড়েছে ‘নোটা’য়। 
  • Link to this news (বর্তমান)