• শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক খুনে বাড়ছে রহস্য, পুলিশের কড়াকড়িতে নাজেহাল দোহাড়িয়া
    বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে আড়াই দিন। কিন্তু মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া মুজিবর রোড স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি এখনও। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের পর থেকে গোটা এলাকা পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ হয়ে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে রাস্তার বিভিন্ন অংশ টেপ দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসী থেকে সাধারণ মানুষকে। তবে এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা। কী কারণে এই নৃশংস খুন, তা ভেবে কুল পাচ্ছেন না বিজেপি কর্মীরাও। অকুস্থলের চারপাশ পুলিশ টেপ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ঘুরপথে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কোথাও কোথাও আবার দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। অফিসযাত্রী থেকে স্কুলপড়ুয়া—দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সবাইকে। সন্ধ্যা নামলে দ্রুত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ, আতঙ্ক আর কড়া নজরদারিতে দৈনন্দিন বেচাকেনা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আতঙ্কের কেন্দ্রে রয়েছে গত বুধবার রাতের সেই ৪৫ সেকেন্ড! তখন কেউ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। কেউ দোকান বন্ধ করছিলেন। কেউ ফিরছিলেন বাজার করে। আচমকা কালো কাচ লাগানো একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায়। তারপর একের পর এক গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। তদন্তকারীদের দাবি, মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের নিখুঁত অভিযানে চন্দ্রনাথ রথকে খুন করে আততায়ীরা। গুলির শব্দে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান পথচারীরা। কেউ দোকানের শাটারের আড়ালে লুকোন, কেউ প্রাণভয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ছেড়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। রাত নামলেই বাড়ির বাইরে বেরতে চাইছে না কেউ। সামান্য শব্দেও চমকে উঠছেন অনেকে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি বলে জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। সেই সঙ্গে এলপিজি সিলিন্ডার থেকে শুরু করে ই-কমার্স ডেলিভারির ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। ঘুরপথে যেতে হচ্ছে তাঁদেরও। বাইক বা চারচাকা নিয়ে নিজের বাড়ি যেতে পারছেন না অনেকে। 

    শিক্ষিকা তনুশ্রী দে বললেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমরা সবাই পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছি। এলাকা টেপ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। স্কুটারে স্কুলে যেতে পারছি না। হেঁটে গিয়ে বাস ধরতে হচ্ছে।’ অন্যদিকে শুভম চট্টরাজ বলেন, সেদিনকার ঘটনা এখনও আমাদের চোখে ভাসছে। এই ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আমাদের দাবি, পুলিশের উচিত দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া। না হলে দুষ্কৃতীদের সাহস বাড়তে থাকবে।  
  • Link to this news (বর্তমান)