• মায়ের কোলে চেপেই পরীক্ষাকেন্দ্রে, মাধ্যমিকে ৩৫২ পেল ৩ ফুটের নিশা
    বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বনগাঁ: জন্মের পর জানা গিয়েছিল শিশুটি বিশেষ রোগে আক্রান্ত। তারপর শারীরিক কারণে ওর বাড়বৃদ্ধি তেমন হয়নি। উচ্চতা বাড়তে বাড়তে মাত্র তিন ফুটে গিয়ে ঠেকেছে। মেয়েটি ভালো করে দাঁড়াতে পারে না। তার সহপাঠীরা যখন হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসে তখন মেয়েটি আসে তার মায়ের কোলে চেপে। এভাবেই স্কুলে আসা যাওয়া তার। এই করতে করতে বড়ো হয়ে গিয়েছে। এবার মাধ্যমিক দিল। পেয়েছে ৩৫২ নম্বর। প্রবল শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও ওকে আটকাতে পারেনি। মেয়েটির নাম নিশা চক্রবর্তী। পাঁচপোতা ভারাডাঙা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

    ওর বাবা দেবকুমার চক্রবর্তী ফুচকা বিক্রেতা। মা শ্যামলী চক্রবর্তী গৃহবধূ। তাঁদের দুই মেয়ে। নিশা হল বড়ো। ওদের সংসারে টাকার অভাব। তাই নিশার ঠিকঠাক চিকিৎসা করাতে পারেননি মা-বাবা। তবে তাতে হার মানেনি মেয়েটি। মাধ্যমিক সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। ৭০ নম্বর পেয়েছে ইংরেজিতে। ভূগোলে ৬৪। পড়াশোনা করার তাগিদ ছোটবেলা থেকেই ছিল। মেয়ের জেদ দেখে বাবা-মা সবসময় পাশে থেকেছেন। সাহস জুগিয়ে গিয়েছেন নিরন্তর।

    ফলে বিশেষভাবে সক্ষম হয়েও মাধ্যমিকে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ গাইঘাটার নিশা। জীবনের প্রথম বড়ো পরীক্ষার সাফল্য তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। নিশা থাকে গাইঘাটার মহিষাকাটিতে। সেখান থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যন্ত মায়ের কোলে চেপে এসেছে। কষ্ট করে বসে সমস্ত পরীক্ষা দিয়েছে। এবং সফল। মা তার একমাত্র অবলম্বন। যে কোনো জায়গায় যাতায়াতে মা একমাত্র ভরসা। মেয়ের সঙ্গে টানা লড়াই করে চলেছেন মা শ্যামলীদেবীও। তাই মেয়ের সাফল্যে মেয়ের মতোই খুশি তিনি। আর খুশি নিশার বাবা। এবং স্কুলের শিক্ষকরা।

    পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় পড়াশোনার দিকে ঝোঁক বৃদ্ধি পায় নিশার। অত্যন্ত মনোযোগী ছাত্রী হয়ে ওঠে। শিক্ষকদের প্রিয় ছাত্রী ও। শরীর ঠিক নয় বলে ওর একটানা পড়তে কষ্ট হয়। খাতায় লিখতে গেলে হাত কাঁপে। তবে জীবনে সফল হওয়ার জেদ ছাড়েনি। স্বপ্ন দেখে একটা ভালো চাকরির। তার জন্য হাজার প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দাঁতে দাঁত চেপে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

    বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণ করতে হবে বলে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক রাখতে চায় না নিশা। বলে, ‘সরকারি চাকরি করতে চাই। বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াতে চাই।’ পড়াশোনা ছাড়া ছবি আঁকতে ভালো লাগে ওর। মা শ্যামলীদেবী বলেন, ‘আমরা খুব খুশি। মেয়ে যত দুর পড়তে চাইবে আমরা কষ্ট হলেও পড়াবো। চাই ও খুব বড়ো হোক। ভালো চাকরি করুক। তবেই আমাদের কষ্ট দূর হবে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)