নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও শিলিগুড়ি: শপথ হবে রবীন্দ্র জয়ন্তীতে—এই সিদ্ধান্ত ছিল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর। আর বাঙালির সেই আবেগের দিনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিতে তাঁরই সতীর্থের পা ছুঁয়ে এক বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন মোদি। মাখনলাল সরকার। বসেছিলেন তিনি মঞ্চেই। ভিভিআইপি থেকে দর্শক, সবার মনে কৌতূহল জাগিয়ে। একঝাঁক মন্ত্রীসান্ত্রীর মাঝে কে এই অচেনা নবতিপর?
শনিবার সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় ব্রিগেড ময়দানে প্রবেশ করছিল। তার ঠিক সামনে রাস্তা দিয়ে প্রায় ছুটে মাঠে ঢুকছিলেন রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মোদি মঞ্চে উঠলেন। ঘড়িতে তখন ১১টা ০৫। তারকাখচিত সেই শপথ মঞ্চে নতজানু হয়ে বঙ্গবাসীকে প্রণাম করলেন। তারপর শুভেন্দুকে সঙ্গী করে কবিগুরুর ছবিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেন মোদি। ততক্ষণে হন্তদন্ত হয়ে মাইক হাতে তুলে নিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তারপরই ভাঙল কৌতূহল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গী মাখনলাল সরকারের সঙ্গে সকলের পরিচয় করিয়ে দিলেন শমীক। চকিতে বদলে গেল অনুষ্ঠানের মেজাজ। মাখনলালের উপস্থিতি আরএসএস-জনসংঘ-বিজেপিকে এক সূত্রে গেঁথে দিল। অগ্রজ মাখনলাল সরকারকে বিশেষ নকশা কাটা চাদর পরিয়ে বরণ করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রণাম করলেন পা ছুঁয়ে। সতীর্থ শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নপূরণের অন্যতম কান্ডারি মোদিকে বুকে টেনে নিলেন মাখনলালও। পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মাখনলাল সরকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হল। উনি একজন নিবেদিত জাতীয়তাবাদী মানুষ। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছিলেন এবং জম্মু-কাশ্মীরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।’
অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারীও প্রণাম করেন ৯৭ বছর বয়সি মাখনবাবুকে। দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অপরাধে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল দিল্লি পুলিশ। সে ছিল ১৯৫২ সাল। বিচারক তাঁর গান শুনে মাখনবাবুকে শুধু মুক্তিই দেননি... পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন—ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট কেটে মাখনলালকে শিলিগুড়ির বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে। যাতায়াতের জন্য দিতে হবে ১০০ টাকা। এদিন যে সম্মান তিনি পেয়েছেন, তাতে আপ্লুত মাখনলালবাবু। ফোনে বলেন, ‘কোন গানের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিলাম, ঠিক মনে পড়ছে না। কিন্তু বিচারকের সামনে সেই গান গাওয়ার পরে তিনি আমাকে সসম্মানে বাড়ি ফেরানোর নির্দেশ দেন। এদিন যেভাবে প্রধানমন্ত্রী সম্মান জানিয়েছেন, তাতে আমি খুবই খুশি।’