• জনদরবারে শপথ শুভেন্দুর, মোদি-শাহ সহ তারকা সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বগ্রহণ
    বর্তমান | ১০ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাত্র ২৬ মিনিট! সংক্ষিপ্ত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেই আনুষ্ঠানিক কলেবর পেল ২০২৬ সালের নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তীতে ব্রিগেড ময়দানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে তাঁকে বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি। সাক্ষী মঞ্চে হাজির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর মন্ত্রিসভার তাবড় একঝাঁক সতীর্থ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, এনডিএ-বিজেপি শাসিত ২০টির বেশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-উপমুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে তখন গমগম করছে কলকাতার ‘ফুসফুস’।

    শপথের মঞ্চে প্রবেশের আগে ব্রিগেডে এদিন ফের অনুভূত হল ‘মোদি ম্যাজিক’! সরাসরি মঞ্চে না উঠে প্রধানমন্ত্রী মাঠে ঢুকে পড়লেন। হুডখোলা গাড়িতে নিজের দু’পাশে শমীক-শুভেন্দুকে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে অভিবাদন কুড়োতে কুড়োতে এগল গেরুয়া গাড়ি। তারপর মঞ্চে প্রবেশ করে অনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আচমকাই নেমে পড়লেন মোদি। মঞ্চের পিছনে তাঁর জন্য তৈরি অস্থায়ী কার্যালয়ে ভাবী মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ২১ মিনিটের জরুরি বৈঠক। হবু মুখ্যমন্ত্রীকে দিলেন আগামীর দিশা। আর গোটা সময়টা মঞ্চেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করলেন অমিত শাহ-রাজনাথ সিং থেকে শপথের অপেক্ষায় থাকা ভাবী মন্ত্রীরা।

    ১১টা ২৬ মিনিটে দ্বিতীবারের জন্য মঞ্চে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গী রাজ্যপাল ও রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। ১১টা ৩১ মিনিটে মন্ত্রগুপ্তির শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গেই মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন আরও চার জয়ী বিজেপি প্রার্থী। শুভেন্দুর পর খড়্গপুর (সদর) কেন্দ্রে জয়ী দিলীপ ঘোষকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল। বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায় একমাত্র মহিলা প্রতিনিধি হিসাবে শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পাল। মতুয়া সম্প্রদায় থেকে নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন বনগাঁ উত্তরে জয়ী অশোক কীর্তনিয়া। রানিবাঁধ থেকে পদ্ম প্রতীকে জিতে আসা আদিবাসী মুখ ক্ষুদিরাম টুডুও শুভেন্দুর ক্যাবিনেটে জায়গা করে নিয়েছেন। উত্তরবঙ্গ থেকে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র রাষ্ট্রমন্ত্রী নিশীথ প্রমাণিক। যদিও মন্ত্রীদের দপ্তর এদিন বণ্টন করা হয়নি। সূত্রের দাবি, সোমবার শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

    ব্রিগেডের অনুষ্ঠান সেরে শুভেন্দু এদিন সোজা চলে যান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভিটে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। সেখানে বিশ্বকবির মূর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর রেড রোডের দিকে ছোটে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কালো স্করপিও। ময়দানের সরকারি তাঁবুতে রাজ্যের মুখ্যসচিব-স্বরাষ্ট্র সচিবদের নিয়ে বৈঠকও সারেন শুভেন্দু। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজের তদারকি করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি যান ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানেই ভারতকেশরীকে শ্রদ্ধা জানান শ্যামাপ্রসাদের দলের সরকারের নবনিযুক্ত ‘মুখিয়া’। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০ জুন তারিখটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ ঘোষণা এবং দিনটিকে পৃথকভাবে উদযাপনের ভাবনা রয়েছে তাঁর। ভবানীপুর নেতাজির কর্মভূমি। মহানায়ক উত্তমকুমারের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এখানে। মন্দির সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে এমন গৌরবময় স্থানগুলি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ঢেলে সাজার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ভবানীপুর থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু যান বালিগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সংঘের হেড কোয়ার্টারে। স্বর্গীয় স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের ছবিতে প্রণাম করেন। তারপর সোজা কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • Link to this news (বর্তমান)