তামিলনাড়ুতে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু তিনিই হবেন। তাঁকে বাদ রেখে কিছু হবে না। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে এ কথা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলেন টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয়। বুঝিয়ে দিলেন, সরকারের ভালো কাজের কৃতিত্ব যদি তাঁর হয়, তা হলে খারাপ কাজেরও দায় তাঁরই। তিনিই তার জবাবদিহি করবেন। এই বার্তার মধ্যে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, জোটসঙ্গীদের চাপে বাধ্য হয়ে তিনি কিছু করবেন না। যা করার সকলকে সঙ্গে নিয়েই করবেন। পাশাপাশিই বিজয় বলেন, ‘আমি কোনও ঈশ্বরের দূত নই। সাধারণ মানুষ। আমার আমলেই ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়ের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।’
বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর তাঁকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। রবিবার সকালে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে মোদী লেখেন, ‘তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় থিরু সি. জোসেফ বিজয়কে অভিনন্দন। আগামীর জন্য শুভকামনা রইল। জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার তামিলনাড়ু সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে।’
শপথগ্রহণের পর ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় জানান, তিনি রাজপরিবারের কেউ নন। একেবারে সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এক ব্যক্তি। সেই কারণেই মানুষ তাঁকে বেছে নিয়েছেন। রাজ্যের উন্নতিতে তাঁর যা পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়িত করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে কিছু সময়ও চেয়েছেন বিজয়। তিনি বলেন, ‘আমি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কারও সঙ্গে প্রতারণা করব না।’
কিছু প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বিজয়। ঘোষণা করেছেন, তামিলনাড়ুবাসী ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাবেন বিনামূল্যে। মাদক রুখতে কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন বিজয়। মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় ঘোষণা বিজয়ের। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম ভাষণে বিজয়ের মুখে শোনা গেল তামিল শব্দবন্ধ, ‘এন নেনজিল কুডিয়িরুক্কুম’, যার অর্থ ‘যাঁরা আমার হৃদয়ে থাকেন’।