• গঙ্গা-ভাঙন রোধে ছ'হাজার কোটির মাস্টার প্ল্যান, মানিকচক ও ভুতনিতে উদ্যোগ প্রশাসনের
    এই সময় | ১০ মে ২০২৬
  • এই সময়, মালদা: আর টানাপড়েন নয়। রাজ্য ও কেন্দ্রে বিজেপি সরকার হওয়ায় এ বার গঙ্গা-ভাঙনে স্থায়ী সমাধান হবে বলে মনে করছেন মানিকচক ও ভূতনি এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের এই মনে হওয়ার পিছনে শুধু বিজেপি বিধায়কের আশ্বাস নয়, মালদা জেলা প্রশাসন প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার 'মাস্টার প্ল্যান' তৈরির পরিকল্পনা নেওয়ায় আশার আলো দেখছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, 'মাস্টার প্ল্যান' তৈরি করে দ্রুত পাঠানো হবে রাজ্য ও কেন্দ্রের কাছে। মালদার জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী বিহার, ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশ নিয়ে মানিকচক ও ভূতনির গঙ্গা ভাঙনে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছর বর্ষার আগেই ভাঙন প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় কোনও এজেন্সিকে দিয়ে কাজ করা হবে। স্থায়ী সমাধান হলে এই দুই এলাকার মানুষকে আর দূর্ভোগে পড়তে হবে না।

    মানিকচক ব্লকের গোপালপুর, ভূতনি থানার হীরানন্দপুর, উত্তর ও দক্ষিণ চন্ডীপুর, কেশরপুর-সহ একাধিক এলাকায় ভাঙনের জেরে বিঘার পর বিঘা জমি তলিয়ে গিয়েছে গঙ্গাগর্ভে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়েছেন। একদিকে বন্যা, অন্যদিকে ভাঙন-জোড়া ফলায় তছনছ বিস্তীর্ণ এলাকা। এতদিন ভাঙন প্রতিরোধের কাজ নিয়ে রাজ্যের তৃণমূল ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মধ্যে টানাপড়েন চলছিল। রাজ্যে পালাবদল হওয়ায় সেই সমস্যা আর নেই। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকচক ও ভুতনির ভাঙন রুখতে ঝাড়খণ্ড সীমানা ঘেঁষা গঙ্গায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটারের একটি সরু ক্যানাল কাটা হবে। একইসঙ্গে ভাঙন কবলিত আপ ও ডাউন স্ট্রিমে বোল্ডারের মাধ্যমে স্থায়ী ভাবে প্রতিরোধের কাজ চলবে। ভূতনি এবং মানিকচকের ভাঙন সম্পূর্ণভাবেই নির্মূল করতে যে পরিকল্পনা প্রশাসনের রয়েছে তা শেষ করতে আড়াই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। মানিকচক বিধানসভা থেকে জয়ী বিজেপি বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল বলেন, 'ভাঙন প্রতিরোধের জন্য এতদিন কেন্দ্রের যত টাকা এসেছে তা লুট করেছে তৃণমূল। ফলে প্রতি বছরই মানিকচক ও ভূতনিতে লক্ষাধিক মানুষকে বন্যা ও ভাঙনের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই সমস্যা এ বার দূর হতে চলেছে। যেহেতু ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হয়েছে তাই ভাঙন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে 'মাস্টার প্ল্যান' তৈরির কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।'

    ভুতনির হীরানন্দপুরে ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্ত মতিলাল মণ্ডল, পরিতোষ মন্ডলদের বক্তব্য, 'রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপড়েনে মানিকচক ও ভূতনির লক্ষাধিক মানুষকে ভাঙনের কবলে পড়তে হয়েছে। প্রতি বছর ভাঙন হচ্ছে। আর বালির বস্তা ফেলার নামে কোটি কোটি টাকা তছরূপ করা হয়েছে। এ বারে পরিবর্তন হয়েছে। আশা করছি গঙ্গা ভাঙনের স্থায়ী সমাধান হবে।' যদিও বিজেপির অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী। তিনি বলেন, 'মানিকচক ও ভূতনির ভাঙন নিয়ে কেন্দ্র কোনও টাকা দেয়নি। যা কাজ করেছে সেচ দপ্তর। ভিত্তিহীন অভিযোগ।'

  • Link to this news (এই সময়)