চন্দ্রনাথের খুনে ব্যবহৃত গাড়ি আসে ঝাড়খণ্ড থেকে! ভিতর থেকেই অনলাইনে পাঠানো হয় টাকা, নতুন তথ্য পেল পুলিশ
আনন্দবাজার | ১০ মে ২০২৬
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের তদন্তে নতুন তথ্য এসেছে পুলিশের হাতে। যে গাড়িটি খুনে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি ঝাড়খণ্ড থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীরা মনে করছেন। ওই গাড়ি থেকে অনলাইনে টাকা পাঠানো হয়েছিল। বালি টোলপ্লাজায় সেই টাকা দেওয়া হয়। সেই সূত্র ধরে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের তরফে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। তাতে এসটিএফ এবং রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র আধিকারিকেরাও আছেন। তদন্তকারী দলের প্রতিনিধিরা উত্তরপ্রদেশে গিয়েছেন অভিযুক্তদের খোঁজে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বসেও মিলেছে নতুন কিছু তথ্য। তদন্তকারীরা আশাবাদী, এই সমস্ত সূত্র জুড়ে শীঘ্রই চন্দ্রনাথের হত্যাকারী পর্যন্ত পৌঁছোনো যাবে এবং দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে।
বালি টোলপ্লাজার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনলাইনে ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা দেওয়ায় সেখান থেকে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে গ্রেফতারির জন্য উপযুক্ত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথকে গুলি করে খুন করা হয়। চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে অন্য একটি চারচাকার গাড়ি চলে এসেছিল। তার ফলে চন্দ্রনাথের গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। সেই সময় দু’পাশ থেকে দু’টি বাইকে চেপে আসে দুষ্কৃতীরা। চন্দ্রনাথ এবং তাঁর গাড়ির চালককে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর গাড়ির চালক এখনও হাসপাতালে। ওই ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে বিজেপি। অভিযোগে নিশানা করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তবে তৃণমূল বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার নিন্দা করে এবং আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, অন্তত এক-দেড় মাস আগে থেকে চন্দ্রনাথকে খুনের ছক কষা হয়েছিল। সেই সময়ে তাঁকে হত্যা করার মতো কারণ কার কার থাকতে পারে, কারও সঙ্গে চন্দ্রনাথের বচসা হয়েছিল কি না, দেখা হচ্ছে। খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি ঘটনার দিনই বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। তাতে যে নম্বরপ্লেটটি রয়েছে, সেটি ভুয়ো। এর পর দুষ্কৃতীদের দু’টি বাইকও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের বক্তব্য, এই বাইকগুলির নম্বরপ্লেটও ভুয়ো। তদন্তকে ভুল পথে চালিত করার উদ্দেশ্যেই তা করা হয়েছে।