আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনী প্রচার পর্বে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর উপর হামলা চালানোর অভিযোগে শনিবার গভীর রাতে বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হলেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার।
প্রসঙ্গত, গত ৪ এপ্রিল সকালবেলায় বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী।
বিটি কলেজ এলাকায় একটি গলির ভেতর দিয়ে অধীর চৌধুরীর মিছিল শুরু হতেই সেই সময় ভীষ্মদেব কর্মকারের নেতৃত্বে কিছু তৃণমূল কর্মী সমর্থক অধীর চৌধুরী এবং কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলা করেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।
ঘটনাস্থলে থাকা অধীর চৌধুরীর নিরাপত্তারক্ষী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সেদিন কোনওক্রমে অধীর চৌধুরীকে ওই এলাকা থেকে বার করে নিয়ে আসেন। এরপরই, অধীর চৌধুরীর তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনে ভীষ্মদেব কর্মকার সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বহরমপুর থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সেই মামলাতেই শনিবার রাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার।
প্রসঙ্গত শনিবারও বহরমপুর থানার পুলিশের তরফে পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গির্জাপাড়া এলাকায় অসীম সরকার নামে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
সেখান থেকে পুলিশ তিনটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪০ রাউন্ড গুলি এবং চারটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে। পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযান চালানোর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত অসীম সরকারের বাড়িতে এসেছিলেন বহরমপুর টাউন যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি পাপাই ঘোষ।
পুলিশের গ্রেপ্তারি এড়াতে বর্তমানে পাপাই ঘোষ এবং অসীম সরকার দুজনেই পলাতক বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার রেশ কাটার আগেই ভীষ্মদেব কর্মকারের গ্রেপ্তার মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারে বহরমপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জির হয়ে ভীষ্মদেব কর্মকার এবং পাপাই ঘোষ দুজনেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
নির্বাচনী প্রচার পর্বে ভীষ্মদেবের বিরুদ্ধে যেমন সরাসরি অধীর চৌধুরীর প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তেমনই পাপাই ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে বা যারা অধীর চৌধুরীকে সাহায্য করেছিলেন তাঁদেরকে হুমকি দেওয়া এবং মারধর করার।
গোটা ঘটনা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা কান্দির প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, ‘ভোট প্রচার পর্বে ওই দিন দু’দলের মধ্যেই ধস্তাধস্তি হয়েছিল। অথচ এখন একতরফা ভাবে তৃণমূলের কর্মী নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বিজেপির সখ্যতা রয়েছে। হয় তিনি বিজেপির মদত নিয়ে মুর্শিদাবাদ দখলের স্বপ্ন দেখছেন অথবা বিজেপির হাতে মুর্শিদাবাদ তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’