• তোলাবাজি রুখতে পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি, বিজেপি সরকারে আসতেই বাস মালিকদের বার্তা, ‘বন্ধ করুন’
    প্রতিদিন | ১০ মে ২০২৬
  • বঙ্গের বিজেপি নেতারা প্রায়ই তৃণমূল সরকারকে ‘তোলামূল’ সরকার বলে কটাক্ষ করতেন। এমনকী কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বরাও তোলাবাজি রুখতে রাজ্যবাসীর কাছে আসল পরিবর্তন আনার ডাক দিয়েছিলেন। তাই রাজ্যে পালাবদলের পরে নতুন সরকারের কাছে তোলাবাজি বন্ধের আবেদন জানালেন বাস মালিকরা। হাওড়া স্টেশনে হাওড়া-দিঘা বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২২০টি বাস দিঘা-সহ মেদিনীপুর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে। বাস মালিকদের অভিযোগ, এই বাসস্ট্যান্ডে বাস সংগঠনের নাম করে বাস মালিকদের থেকে বছরের পর বছর সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে টাকা তোলা হচ্ছে। স্ট্যান্ডে বাস রাখলে শ্রমিক সংগঠনকে টাকা দিতে হবে এরকম কিছু অমূলক কারণ দেখিয়ে বছরের পর বছর টাকা তোলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার এই তোলাবাজি বন্ধ করুক। এবার এই আর্জি নিয়েই সরব হলেন বাস মালিক সংগঠনের কর্তারা।

    বাস শ্রমিক সংগঠনের নাম করে প্রত্যেকদিন হাওড়া স্টেশনে ওই স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো বাস মালিকদের কাছ থেকে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা করে নেওয়া হয়। অথচ ৫০ টাকার রসিদ দেওয়া হয়। এই তোলার টাকা না দিলে রীতিমতো মারধরও করা হয়। এমনকী, বাইরে থেকে কোনও বাস এসে হাওড়া স্টেশনের দিঘা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ালে তাদেরকে কয়েক লক্ষ টাকা করে দিতে বাধ্য করা হয়। তোলার টাকা না দিলেই চলে হুমকি, মারধর। এবার নতুন সরকার আসার সঙ্গে সঙ্গেই এই তোলাবাজি বন্ধ করার দাবি তুললেন বাস মালিকরা।

    বাস মালিকদের সংগঠন অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “বাস শ্রমিক সংগঠনের নাম করে দিনের পর দিন যেভাবে তোলাবাজি হয়েছে তাতে বাস চালিয়ে ব্যবসা করাই ক্রমশ মুশকিল হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন এরকম তোলাবাজি চলতে থাকলে আমাদের বাস চালানোই বন্ধ করে দিতে হবে। আর এটা হলে গণ পরিবহণ ধাক্কা খাবে। ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের নাম করে এই তোলাবাজি চলছে। নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন আপনারা বিষয়টি দেখুন। দীর্ঘদিনের এই তোলাবাজি থেকে বাস মালিকদের মুক্তি দিন। আশা করি নতুন পরিবর্তনের সরকার আমাদের এই আবেদনে সাড়া দেবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)