ফ্যাশন র্যাম্প থেকে রাজনীতি, কোন জটিল বাধা পেরিয়ে আজ মহাকরণে ‘জেদি’ অগ্নিমিত্রা?
প্রতিদিন | ১০ মে ২০২৬
ফ্যাশন র্যাম্পের গ্ল্যামার ছেড়ে ধুলোমাখা রাস্তায় লড়াই করে বাংলার প্রশাসনিক চালিকাশক্তির অন্যতম কারিগর। উত্তরণের পথ মসৃন ছিল না। অনেক বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মন্ত্রিসভায় অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল, দুর্গাপুরের ঘরের মেয়েকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত শিল্পাঞ্চল। টলিউড থেকে বলিউড, পোশাক পরিকল্পনায় যাঁর মুন্সিয়ানা নজর কেড়েছে। একসময় মুগ্ধ করেছিল শ্রীদেবীর মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীকেও। সেই অগ্নিমিত্রা পাল আজ বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতার অন্যতম শীর্ষবিন্দু। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার জয়লাভের পর শনিবার ব্রিগেডে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালের ২৫ নভেম্বর আসানসোলের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম অগ্নিমিত্রার। তাঁর বাবা প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ অশোক রায়। অগ্নিমিত্রা মনে করেন, বাবার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাঁর জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। লরেটো কনভেন্ট থেকে স্কুলজীবন শেষ করে আসানসোল গার্লস কলেজ ও বিবি কলেজ থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় স্নাতক হন তিনি। পরে ফ্যাশন ডিজাইনিং এবং এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
ফ্যাশন জগতে প্রশংনীয় কাজ করেছেন। তারপর রাজনীতির জগতে পা রাখেন। সেখানেও সফল আসানসোলের অগ্নিমিত্রা। কঠোর পরিশ্রম ও তাঁর প্রতি দলীয় নেতৃত্বের অগাধ আস্থাই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভায়। প্রধানমন্ত্রীর সামনে শপথগ্রহণ যেন স্বপ্নের মতো। জানান অগ্নিমিত্রা পাল। রবিবার কালীঘাট ও নকুলেশ্বর মন্দিরে পুজো দিতে যান তিনি। আসানসোল দক্ষিণের দ্বিতীয়বারের বিধায়ক বলেন, “রাজনীতির কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না, শুধু স্বপ্ন ছিল মোদিজির সঙ্গে কাজ করব। মোদিজি আমাকে বাই নেম চেনেন, এর চেয়ে বেশি আর কিছু চাই না। রাজনীতিতে এসে শুভেন্দুদার হাত ধরেই তো শিখেছি। দিলীপ দা, শমীক দা, শুভেন্দুদারা সাংগঠনিক শিক্ষা দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “বাংলায় মহিলাদের উপর অত্যাচার আর সহ্য করা হবে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দিনও শেষ।” শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন, বেকার যুবদের কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন আনাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। আসানসোলের মানুষ আশাবাদী যে তাঁদের ঘরের মেয়ে মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পাবেন। সংসদীয় রাজনীতির অলিগলি যাঁর হাত ধরে শেখা, সেই শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ঝরে পড়ে তাঁর গলায়। পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদারের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অগ্নিমিত্রার পৈতৃক ভিটে অবশ্য দুর্গাপুরের গোপালমাঠে। অগ্নিমিত্রার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া তাঁর পৈত্রিক বাড়িতেও। মা-বাবা শপথ গ্রহণে সাক্ষী হিসাবে থাকতে পারলেও যেতে পারেননি জেঠু, জেঠিমা। জেঠু মনোরঞ্জন রায় বলেন, “আমাদের পরিবারের কেউ কোনওদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ছোটবেলা থেকেই অগ্নিমিত্রার রাজনীতির প্রতি আগ্রহ ছিল। নিজের পরিশ্রম আর লড়াইয়ের জোরে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। আমাদের যাওয়ার জন্য বলেছিল। কিন্তু শরীর অসুস্থ থাকায় আমরা যেতে পারিনি। ফোনে কথা হয়েছে।” জেঠিমা স্বপ্না রায়ের কথায়, “ও ছোট থেকেই খুব জেদি আর সাহসী মেয়ে। মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছেটা সবসময় ছিল। মন্ত্রী হওয়ার খবর শুনে খুব ভালো লাগছে। নিজেদের সত্যিই গর্বিত মনে হচ্ছে।”