• কংগ্রেসে যোগ দিতে চেয়েছিলেন বিজয়, পিছিয়ে আসেন রাহুলের ‘এই’ শর্তে
    এই সময় | ১০ মে ২০২৬
  • তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় নাম এবং সম্ভবত জাতীয় রাজনীতিতেও এখন সবথেকে আলোচিত নাম থালাপতি বিজয়। রবিবার তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন তিনি। কংগ্রেস তাঁর দল TVK-কে সমর্থন না জানালে সরকার গঠনই করতে পারতেন না তিনি। অথচ, নির্বাচনের আগে DMK-র সঙ্গে জোটে ছিল কংগ্রেস।

    এত দ্রুত কী ভাবে TVK-র সঙ্গে সমঝোতা হলো কংগ্রেসের? অনেকেই এতে অবাক। আসলে অনেকেরই জানা নেই, দীর্ঘদিন ধরেই থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। এমনকী, ২০০৯ সালে প্রায় কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ফেলেছিলেন বিজয়। কেন শেষ পর্যন্ত তা ঘটেনি?

    হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিতে চেয়েছিলেন বিজয়। সেই সময়ে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন রাহুল গান্ধী। রাহুলের সঙ্গে বিজয়ের একটি ‘গোপন বৈঠক’-ও হয়েছিল। কিন্তু রাহুল গান্ধী তাঁকে এমন এক শর্ত দিয়েছিলেন, তাতেই তিনি রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা পিছনে রেখে চেন্নাই ফিরে গিয়েছিলেন।

    সূত্রের খবর, ২০০৯ সালে বিজয় এবং তাঁর বাবা এস এ চন্দ্রশেখর কংগ্রেসের তৎকালীন জাতীয় সম্পাদক গোপীনাথ পালানিয়াপ্পানের সঙ্গে দিল্লি গিয়েছিলেন। শোনা যায়, বিজয়ের বাবা কংগ্রেসের আদর্শের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। তিনিই চেয়েছিলেন বিজয় কংগ্রেসে যোগ দিন।

    সেই সময়ে মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বে ইউপিএ (UPA) সরকার সবেমাত্র ক্ষমতায় ফিরেছে। সরকারে বড় ভূমিকা নেওয়ার জন্য চাপ ছিল রাহুল গান্ধীর উপরে। তবে রাহুল সেই সময়ে যুব কংগ্রেস এবং ছাত্র পরিষদকে ঢেলে সাজাতে চেয়েছিলেন। তাই সরকারি দায়িত্ব নিতে চাননি। তিনি ছাত্র সংগঠনের জন্য মেধার সন্ধানে ছিলেন। জানা গিয়েছে, বৈঠকে বিজয়কে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, তাঁকে যুব কংগ্রেসের নির্বাচনে লড়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।

    বিজয়ের সেই প্রস্তাব পছন্দ হয়নি। তখন তাঁর মাত্র ৩৪ বছর বয়স। অত্যন্ত সফল কেরিয়ার। ৫০তম ছবির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতার মতে, বিজয় শুধু কংগ্রেসের সদস্য হতে চেয়েছিলেন। দলীয় নির্বাচন বা কোনও নির্বাচনেই তিনি সেই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, DMK-ও হয়তো বিজয়ের কংগ্রেসে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি করেছিল।

    ফলে সেই যাত্রা রাহুল গান্ধী ও থালাপতি বিজয়ের পথ আলাদা হয়ে গিয়েছিল। রাহুলের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানিয়েছেন, সে দিন তাঁরা আলাদা পথ বেছে নিলেও তারপর থেকে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ওই সহযোগী আরও জানিয়েছেন, বিজয়ের পক্ষে সেই সিদ্ধান্ত ভালোই হয়েছে। সে দিন কংগ্রেসে যোগ দিলে হয়তো আজ তিনি এই জায়গায় পৌঁছতে পারতেন না। বদলে কংগ্রেসের অন্দরে হারিয়ে যেতেন।

  • Link to this news (এই সময়)