আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথমবারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে রবিবার ছুটির দিন আচমকা জঙ্গিপুর হাসপাতাল পরিদর্শনে চলে গেলেন সেখানকার নবনির্বাচিত বিধায়ক চিত্ত মুখার্জী। হঠাৎ করে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার পরিষেবার মান দেখে ক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়ক হাসপাতালকে নরকের সঙ্গে তুলনা করে বসলেন।
হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে সামনে রেখে আজ কড়া বার্তা দিলেন জঙ্গিপুরের বিধায়ক। বিজেপির বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েই জঙ্গিপুর হাসপাতাল সুপারকে তিন দিনের 'ডেডলাইন ' বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। দাবি ছিল, হাসপাতাল চত্বরে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে এবং কারণ ছাড়াই রোগীকে কথায় কথায় অন্যত্র ‘রেফার’ করা চলবে না।
কিন্তু তিন দিন কেটে গেলেও সুপারের তরফ থেকে আসেনি কোনও ফোন। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ হয়েই রবিবার হঠাৎই হাসপাতালে পৌঁছে যান বিধায়ক। এদিন ওপিডিতে ঢুকে খতিয়ে দেখলেন পরিষেবা। পাশাপাশি রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন বিজেপি বিধায়ক। উঠে আসে একের পর এক অভিযোগ। পরিদর্শন শেষে বিধায়ক সাফ জানিয়ে দেন, “স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেখেলা চলবে না। দালাল রাজ আর ফাঁকিবাজি বরদাস্ত করব না।”
হাসপাতাল পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিত্তবাবু বলেন , “সুপারকে হাসপাতালের পরিবেশ ঠিক করার জন্য তিনদিন সময় দিয়েছিলাম কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। মানুষ এখানে পরিষেবা পেতে আসে, হয়রানি হতে নয়। আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে এই হাসপাতালের সুপার সপ্তাহে মাত্র তিন দিন অফিস করেন। ইতিমধ্যে আমার সঙ্গে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথা হয়েছে। তিনি বহরমপুরে আলোচনার জন্য ডেকেছেন। আগামীকাল সমস্ত বিধায়কের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক আছে। সুযোগ পেলে জঙ্গিপুর হাসপাতালের উন্নতি নিয়ে আলোচনা হবে।”
হাসপাতালের বর্তমান ছবি তুলে ধরে চিত্ত মুখার্জীর অভিযোগ, “সন্ধ্যার পর হাসপাতাল চত্বর দুষ্কৃতীদের আখড়া হয়ে যায়। ডাক্তাররা ঠিকমতো রোগী দেখেন না। নার্সদের একাংশ অসহযোগিতা করেন। এসব আর চলতে দেওয়া যাবে না।” জঙ্গিপুরে বিজেপি বিধায়ক অভিযোগ করেন ,"এই হাসপাতালে কোথাও ময়লা পরিষ্কার করা হয় না, রোগীদের জন্য জলের ব্যবস্থা নেই, ব্লাড ব্যাঙ্কে দু'নম্বরী চলছে। টাকা দিয়ে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত পেতে হয় ।এটা হাসপাতাল না নরক?এখানে ন্যূনতম পরিষেবা রোগীরা পায় না। "
এর পাশাপাশি নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কের আরও অভিযোগ ,"হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক কর্মী সরবরাহের জন্য যে সংস্থা নিযুক্ত রয়েছে তারাও অনেক ক্ষেত্রে বেআইনি কাজ করছে। সে সবই খতিয়ে দেখতে হবে। হাসপাতালের স্টোর থেকে প্রচুর ওষুধ বাইরে বিক্রি হয়ে যায়।" জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডাক্তারদের 'রেফার ডাক্তার' বলে সম্বোধিত করে চিত্ত মুখার্জি বলেন," এখানে কোনও রোগী ভর্তি হতে এলেই তাঁদের বেশিরভাগকেই কলকাতা অথবা বহরমপুরে রেফার করে দেওয়া হয়। হাসপাতালে দালালরাজ এবং ডাক্তারদের ফাঁকিবাজি চূড়ান্ত ।আমার কাছে এই হাসপাতাল নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ জমা পড়েছিল আজ পরিদর্শনে এসে তার ৯০ শতাংশই যে সত্য, তা নিজে চোখে দেখে গেলাম।"