• সোমবারই নবান্নে বড় বৈঠক নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, কী নিয়ে আলোচনা?
    আজ তক | ১১ মে ২০২৬
  • Nabanna Security: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবারই প্রথম 'অফিসিয়াল' বৈঠকে বসতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মিটিংয়ের বিষয়- রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা। তার আগে রবিবার নবান্ন এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সোমবার বিকেল ৫টায় হাওড়ার নবান্ন সভাঘরে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। সেই বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়ে উঠেছে প্রশাসন এবং পুলিশ মহল।

    রবিবার সকালে নবান্ন চত্বরে পৌঁছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকও। নবান্নের প্রবেশপথ, আশপাশের রাস্তা, নিরাপত্তা ব্যারিকেড, নজরদারি ব্যবস্থা এবং পুলিশের মোতায়েন; সব কিছুই খতিয়ে দেখা হয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক হওয়ায় কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারের বৈঠকে রাজ্যের সমস্ত জেলার পুলিশ সুপার বা এসপি, বিভিন্ন কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার, রেল পুলিশের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি সিআইডি, এসটিএফ, ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ, ট্র্যাফিক বিভাগ, টেলিকম শাখা, প্রশিক্ষণ বিভাগ, উপকূল নিরাপত্তা এবং সশস্ত্র পুলিশের আধিকারিকদেরও ডাকা হয়েছে। অর্থাৎ গোটা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাঠামোকেই এক ছাদের তলায় আনতে চাইছে নতুন সরকার।

    প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম আইনশৃঙ্খলা বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক বার কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনের সময়ও বিজেপির তরফে আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে বড় ইস্যু করা হয়েছিল। তাই নতুন সরকারের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট বার্তা যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    সূত্রের খবর, সোমবারের বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিভিন্ন জেলায় অপরাধের প্রবণতা, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, সীমান্ত নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ এবং গোয়েন্দা নজরদারি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের মধ্যে কো-অর্ডিনেশন আরও পোক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    নবান্ন সূত্রে খবর, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার রূপরেখাও এই বৈঠকে উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর, রেল এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার প্রশাসনের উপর দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে এবং সোমবারের বৈঠক সেই দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথের পর থেকেই নবান্নে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তনের জল্পনা শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই প্রথম আইনশৃঙ্খলা বৈঠক ঘিরে আমলাতন্ত্র এবং পুলিশ প্রশাসনের নজর এখন নবান্নের দিকেই। নতুন সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং কাজের ধরন এই বৈঠক থেকেই অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 
  • Link to this news (আজ তক)