দল জিতেছে। বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে কেরল রাজ্য এখন কংগ্রেসময়। কিন্তু সমস্যা বেঁধে অন্য জায়গায়। তা হল, মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? দেশের বাকি রাজ্যের মতো কেরলেও মুখ্যমন্ত্রী বাছতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা হাত শিবিরের। রাহুল গান্ধী চাইছেন সাংসদ কে সি বেনুগোপাল কেরলের মুখ্যমন্ত্রী হোন। কিন্তু দলের বাকি নেতারা রাহুলের সঙ্গে একমত নন। সবমিলিয়ে জয় পেলেও অদ্ভুত সংকট তৈরি হয়েছে ‘ঈশ্বরের দেশে’।
কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাহুলের প্রথম পছন্দ কেসি বেনুগোপাল। আলাপ্পুঝা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষে মত দিয়েছেন রাহুল। দলের নেতা-কর্মীদের এই বিষয়ে রাজি করাতে আগামী দু’দিন ধরে শুরু হয়েছে তৎপরতা। শুধু তাই নয় শোনা যাচ্ছে, এই বিষয়ে কথাবার্তাও বহুদূর এগিয়ে গিয়েছে। দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাড়িতে বেনুগোপালের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠকও করেন রাহুল গান্ধী।
তবে সমস্যা বেঁধেছে অন্য জায়গায়। একদিকে রাহুল গান্ধী যখন বেনুগোপালের সঙ্গে বৈঠক করছেন, অন্যদিকে তখন কেরলে বেনুগোপালের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়েছে। কেরলে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের তরফে দাবি উঠেছে রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা ভিডি সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করা হোক। এই দাবিতে পোস্টারও পড়েছে রাজ্যের নানা প্রান্তে। প্রবীণ নেতা চেন্নিথালাও দৌড়ে আছেন। দলীয় সূত্রের খবর, অধিকাংশ দলীয় বিধায়কই চান বেণুগোপাল মুখ্যমন্ত্রী হন, কিন্তু দলের কর্মী-সমর্থকদের একটা বড় অংশ সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষপাতী। দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বও সামনে চলে এসেছে। বেনুগোপালের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন সতীশন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেণুগোপাল বিধায়কদের উপর চাপ সৃষ্টি করে একাধিক গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। উনি পছন্দের প্রার্থীদের টিকিট না দিলে দল আরও বেশি আসন পেত।
উল্লেখ্য, ১৪০ সদস্যের কেরল বিধানসভায় কংগ্রেস একা পেয়েছে ৬৩টি আসন। জোট শরিক আইইউএমএলের বিধায়ক ২২ জন। কেরল কংগ্রেস ৮টি আসনে জিতেছে। তিনটি আসনে জয়ী আরএসপি। সব মিলিয়ে ১০২টি আসন ঝুলিতে পুরেছে কংগ্রেস জোট। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, সরকারের নেতা কে হবেন, সে ব্যাপারে শরিকদের মতামতকেও মাথায় রাখতে হচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বকে।