১৫ বছরের সরকার পতনের পর তৃণমূলের অন্দরের চাপা ক্ষোভ প্রকাশ্যে। ক্ষমতার হাত বদল হতে না হতেই মুহুর্তে বদলে গিয়েছে ঘসাফুলশিবিরের অন্দরমহলের সমীকরণ। দলের ‘কর্পোরেট কালচার’ নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন দলের ছোট-বড় নেতারা। দলের ভরাডুবির নেপথ্যে অভিষেককে কাঠাগড়ায় তুলে দল থেকে বহিষ্কৃতও হয়েছেন অনেকে। তারপরেও ক্ষোভের আগুনে জল ঢালা যাচ্ছে না। এবার তৃণমূলকে সর্বস্বান্ত করার একমাত্র কারণ নিয়ে মুখ খুললেন দলের পোড়খাওয়া প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘অভিষেকের অনেক বুদ্ধি, তবে পরিবর্তন আনা দরকার।’
দলের উত্থান মূলত যাঁদের হাত ধরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলের ভূমিকায় লড়াই করে শাসকের কুর্সির স্বাদ পেয়েছেন। ১৫ বছর পর তাঁদের চোখের সামনে দলটা কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০১ সাল থেকে তিনি আসালসোল কেন্দ্রের বিধায়ক। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে টানা চারবারের সাংসদ। ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবি দেখে এবার ফোঁস করে উঠলেন তিনিও। দলের অন্দরে যে চোরাস্রোত তৈরি হয়েছিল, তা কি আগেই টের পেয়েছিলেন? কল্যাণের বলেন, “উত্থান হলে পতন হবেই এটা যেমন ধ্রুব সত্য। তেমনই এটাও সত্যি যে ক্ষমতার হাতে এলে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। আমিত্বে ডুবে গেলেও অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। আমরা ভাল ছিলাম না বলেই হয়তো মানুষ আমাদের সরিয়েছে।”
দলের নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়েও একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, “রণকৌশলে কোনও ঘাটতি ছিল না। যাঁরা অযোগ্য তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা টিকিট পায়নি তাঁরাই চক্রান্ত করেছে। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলটাকে শেষ করে দিয়েছে।” তৃণমূলের ভরাডুবির নেপথ্যে পরামর্শদাতা আইপ্যাককে ‘সিরিয়াস ইস্যু’ বলে বিস্ফোরক দাবি করেন কল্যাণ। বলেন, “২০২১ সাল থেকে বলেছি। আইপ্যাক সিরিয়াস ইস্যু। আইপ্যাকের লোকজনেরাই সবচেয়ে বেশি সর্বনাশ করেছে। সংগঠনের দুর্বলতার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে আইপ্যাক।” ছাব্বিশের ফলের পর একুশের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা নিয়েও মুখ খোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “প্রশান্ত কিশোর সুযোগ সন্ধানী। উনি থাকলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত দলটাই। প্রশান্ত কিশোরের মতো লোক ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির কাঠামো নষ্ট করেছে, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের নেতারা ওঁর উপর ভরসা করেছে।”