সেদিনের মাঠে কাজ করা, ভ্যান চালানো অশোক এখন মন্ত্রী, আনন্দে হাউহাউ কান্না ছোটবেলার বন্ধুর
প্রতিদিন | ১১ মে ২০২৬
অভাব অনটনে বড় হওয়া। সংসারের চালিয়ে লেখাপড়া করতে কখনও চাষের মাঠে কখনও বা ভ্যানচালক৷ সেই জীবন সংগ্রাম থেকে উঠে আসা অশোক কীর্তনিয়া এবার রাজ্যের মন্ত্রী। সেই কথা জানার পরই আনন্দে হাউহাউ কান্না তাঁর বন্ধু, সহপাঠী শুভাশিস বিশ্বাস ওরফে বাপির। চোখের জল মুছতে মুছতে বাপি বলেন, “অশোক আরও বড় হোক। মানুষের জন্য করুক৷” পুরনো দিনের স্মৃতিচারণায় প্রতিবেশীদের মুখে উঠে এল অশোকের ভ্যান চালানো, লোকের দোকানে কাজ করার প্রসঙ্গও।
বনগাঁ থানার ঘাটবাওড় পঞ্চায়েতের পাইকপাড়া এলাকায় এখনও অশোক কীর্তনিয়ার পুরনো বাড়ি রয়েছে। যদিও সেই বাড়িতে এখন তাঁরা থাকেন না। ওই বাড়ি ভাড়া দেওয়া রয়েছে। ওই এলাকার মানুষজন অশোকের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার খবরে অত্যন্ত খুশি। তাঁরাই জানালেন, রাস্তার পাশের জমিতেই বাড়ি। সেখানেই ছোটবেলা কেটেছে অশোকের৷ ছোট থেকেই অশোক ডানপিটে ছিলেন। পুকুরে নেমে মাছ ধরা, এলাকায় ছুটে বেড়ানো, মাঠে হহই করে খেলায় জুড়ি ছিল না অশোকের। এক একসময় সেজন্য মায়ের কাছে অনেক বকুনিও খেয়েছেন তিনি।
সহপাঠী বাপি বলেন, ক্লাস এইট পর্যন্ত স্থানীয় স্কুলেই পড়াশোনা৷ এরপর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বনগাঁ কলেজে পড়তে যাওয়া। এলাকার ক্লাব সবুজ সংঘে অশোক একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন। খেলাধুলো থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সব কিছুতেই এগিয়ে থাকতেন আজকের এই মন্ত্রী। অশোক কীর্তনিয়ার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ক্লাবের সেসময়ের বন্ধুরা। ছোটবেলার বন্ধুরা তাঁর আরও অগ্রগতির প্রার্থনা করেন। প্রতিবেশী দেবতোষ বিশ্বাস, বন্ধুরা বলেন, “জিরো থেকে হিরো আমাদের অশোক আরও এগিয়ে যাক। মানুষের জন্য কাজ করুক।” বন্ধু বাপি বলেন, “মন্ত্রী হওয়ার খবর শোনার পর চোখে আর জল ধরে রাখতে পারিনি।
অশোকের মা অহল্যা কীর্তনিয়া বলেন, “পান্তাভাত আর ডিম ভাজা ছোটবেলা থেকেই প্রিয় খাবার অশোকের। অনেক কষ্টে মাঠে-ঘাটে কাজ করে অশোক পড়াশোনা করেছে। বড় হয়েছে। ভুল করলে আজও আমি ওকে শাসন করি।” ছেলের সাফল্যে আনন্দিত বৃদ্ধা মা-ও। অশোকের ক্লাব সবুজ সংঘের সে সময় সম্পাদক শৈলেন বিশ্বাস বললেন, “অশোক ভোটে জিতে গ্রামে এসেছিল ৷ ও আমার ভাই। কিন্তু বন্ধুর মতো মিশতাম ৷ আমাদের সবুজ সংঘ ক্লাবের আমি সম্পাদক ছিলাম । ও ছিল ক্রীড়া সম্পাদক।”