‘ওয়েল কাম ব্যাক বিমল’। বিজেপি বিপুল ভোটে পাহাড়ে জিতেছে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফলাফলে পাহাড়ে রীতিমতো উৎসব চলছে। সেই ফলের ‘কিংমেকার’ গোর্খানেতা বিমল গুরুং। এবার তাঁকে নিয়ে পাহাড়ে ভাইরাল র্যাপ সঙ্গীত। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমোকে ঘিরে গানের ছন্দে উল্লাসও দেখা গিয়েছে পাহাড়ের রাস্তাঘাটে।
পাহাড়ে তিনে তিন। বিজেপি ঝড়ে কার্যত উড়ে গেলেন অনীত থাপা, অজয় এডওয়ার্ডরা। নেপথ্যে দাঁড়িয়ে নয়। সেনাপতির মতো সামনে থেকে জয় এসেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং। এরপরই পাহাড়জুড়ে শহর-গ্রামে ভাইরাল র্যাপ সঙ্গীতের সুর ‘ওয়েল কাম ব্যাক বিমল’। কালিম্পং, দার্জিলিং, কার্শিয়াংয়ে বিভিন্ন প্রান্তে বাজছে ওই গান। জেন জি-রা রীতিমতো উচ্ছ্বসিত হয়ে রাস্তায় আনন্দে মেতে রয়েছেন। কেন এমন হবে না? নেপালে পালা পরিবর্তনে জেন জি-দের হাতিয়ার হয়েছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিশিষ্ট র্যাপার বলেন শাহের সুর। দার্জিলিং পাহাড়ে বিজেপির সঙ্গে জোট করে বিমল গুরুংয়ের লড়াই ছিল খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর। র্যাপ সঙ্গীতে সে কথাই তুলে ধরা হয়েছে। সুরে, ছন্দে বলা হয়েছে, অনেক কষ্ট, বঞ্চনার পথ অতিক্রম করেছেন বিমল। অবশেষে তিনি ফিরলেন ঝড়ের বেশে। তাই ‘ফের পাহাড় হাসিও’ অর্থাৎ আবার পাহাড় হাসছে। এখন মুখে মুখে ফিরছে ওই সঙ্গীত।
ইতিমধ্যেই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং ফুবশেরিংয়ে ‘শ্রী বিশ্বকর্মা সমাজ ভবন’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। ভোট প্রচারে দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দিরের সামনের চৌরাস্তা চত্বরে আয়োজিত সভা থেকে গুরুং ঘোষণা করেছিলেন, যদি দার্জিলিং আসনে তাঁর প্রার্থী নমন রাই পরাজিত হন, তবে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন। তেমন কিছু হয়নি। বিজেপি প্রার্থী নমন রাই জয়লাভ করেছেন। নমন রাই মহাকাল মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার সময়ও ভাইরাল সঙ্গীত ‘ওয়েল কাম ব্যাক বিমল’ বাজে। বিমল জানান, দার্জিলিং বিধানসভায় নামান রাইয়ের জয়ের সঙ্গে কার্শিয়াং, কালিম্পং, তরাই এবং ডুয়ার্সে অসাধারণ সাফল্য মিলেছে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কর্মী সমর্থকদের দাবি, এতদিন যারা গুরুংয়ের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারাই এখন কোণঠাসা। গুরুং ফিরলেন রাজার মতো। তাই সেলিব্রেট করতে ‘ওয়েল কাম ব্যাক বিমল’ সঙ্গীতের সুরমূর্ছনা।