• জয়ের আনন্দে বাজি পোড়ানোয় মারধরের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বিজেপি কর্মীর
    এই সময় | ১১ মে ২০২৬
  • ফলপ্রকাশের পরে বাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ বেঁধে গিয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুর (South Dinajpur) জেলার বালুরঘাটের গঙ্গারামপুরে। অভিযোগ, তাতেই গুরুতর জখম হয়েছিলেন জগদীশ বসাক (৬৬) নামে এক বিজেপি কর্মী। শনিবার বিকেলে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হলো তাঁর। গুরুতর জখম তাঁর ছেলে জয়ন্ত বসাক হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও এখনও চিকিৎসাধীন। জগদীশের মৃত্যুর পরে তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছে তাঁর পরিবার। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। মারধরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত জগদীশের বাড়ি গঙ্গারামপুরের বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মহারাজপুর বসাকপাড়ায়। ফলপ্রকাশের পরে ছেলের সঙ্গে বাজি পোড়াচ্ছিলেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কয়েক জন গ্রামবাসীও। সবাই মিলে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের উপরে চড়াও হন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।

    পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে জগদীশকে। তাঁর মাথা ফেটে যায়। জগদীশের ছেলে জয়ন্তকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে প্রথমে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। জগদীশের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়িতে। পরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই শনিবার বিকেলে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। রবিবারই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। সোমবার দুপুরে দেহ বাড়িতে আনা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ঘটনার পরে গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে জগদীশের পরিবার। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে হামলার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই দাবি করে বিরোধী দলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, ‘ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরেই এই ঘটনা বলে শুনেছি। পরে এতে রাজনৈতিক রং লাগানো হয়েছে। যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। আইন আইনের পথে চলুক।’

    সব রকম ভাবে জগদীশের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক তাপস চন্দ্র রায়। তাঁর কথায়, ‘আমরা পরিবারের পাশে আছি। সব দিক খতিয়ে দেখে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিক।’ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, ‘গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে আর কেউ যুক্ত আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

  • Link to this news (এই সময়)