যুদ্ধের আঁচ, নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে সব সংস্থাই
বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
নয়াদিল্লি: সাবান থেকে ডিটারজেন্ট। বিস্কুট থেকে প্যাকেটবন্দি খাবার। গত কয়েক মাসে এ জাতীয় অধিকাংশ গার্হস্থ্য পণ্য মহার্ঘ হয়েছে। বাজারে গিয়ে নিত্য ব্যবহার্য এই পণ্যগুলিতে হাত দিলেই দামে ছেঁকা লাগছে মধ্যবিত্তের। কারণ? যুদ্ধের আঁচ। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে গোলাগুলির টেনশনে শুধু স্টক মার্কেট নয়, ধস নামছে বাজার অর্থনীতিতেও। মূল্যবৃদ্ধির আগুন হেঁশেলে আগেই লেগেছিল, যুদ্ধের সমীকরণ তাতে বাড়তি ইন্ধন জুগিয়েছে। এবং সবচেয়ে বড়ো কথা, এখনই নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির থেকে রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং দাম আরও বাড়বে। এই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরাই। কারণ, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে খনিজ তেলের সরবরাহ কমেছে অনেকটাই। একইসঙ্গে ভেঙে পড়েছে কাঁচামালের সরবরাহ শৃঙ্খল। এই দুইয়ের জেরে এফএমসিজি (ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস) সংস্থাগুলি আরও একবার জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে খবর।
এমনিতে কয়েকমাসে নিত্য ব্যবহার্য পণ্যের দাম বেড়েছে অনেকটাই। যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে এফএমসিজি উৎপাদক সংস্থাগুলি ৩ থেকে ৫ শতাংশ দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। তবে সংস্থাগুলির দাবি, ভূ-রাজনৈতিক এই টালমাটাল অবস্থা যে এত দীর্ঘ হবে, তা তাদের কল্পনাতেও ছিল না। তাই আবার দাম বাড়ানো ছাড়া গতি নেই। সংস্থাগুলির মতে, সমস্যাটা বহুমুখী। জ্বালানি তেলের সংকট শুরুর পর পরিবহণ খরচ বেড়েছে। ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমেছে। এই প্রভাবের থেকে কোনো ক্ষেত্রই মুক্ত নয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অবশ্যই এফএমসিজি সেক্টর। প্যাকেট-বন্দি খাবারের ক্ষেত্রে দাম চাইলেই বাড়ানো যায় না। কারণ, ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্যাকেটের দাম ৫, ১০ বা ১৫ টাকায় বাঁধা। তাই লাভের হার কমানোর পথে হাঁটতে হয়েছে। নয়তো পরিমাণ কমিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে। এখন সেই অবস্থাও নেই। তাই দাম বাড়াতেই হবে।
এ প্রসঙ্গে ডাবর ইন্ডিয়া গ্লোবালের সিইও মোহিত মালহোত্রা বলেন, ‘সংস্থা এখন ১০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির সমস্যায় ভুগছে। তাই দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ একই পথে হাঁটতে চলেছে দেশের অন্যতম বিস্কুট উৎপাদক সংস্থা ব্রিটানিয়া। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্যাকেজিং এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে ২০ শতাংশ খরচ বেড়েছে। তাই দাম বৃদ্ধি এবং পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে।
চিন্তা বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার থেকে বেড়ে গড়ে ১১০ ডলারে ঘোরাফেরা করেছে। তবে ভারতে খুচরো দাম বাড়েনি। তার ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির দৈনিক লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পর্যন্ত। ৭০ দিনে তাদের মিলিত ক্ষতির পরিমাণ এক লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এই অবস্থায় প্রথমবার দেশবাসীকে পেট্রপণ্য ব্যবহারে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার হায়দরাবাদে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে তেল ও গ্যাস বুঝেশুনে ব্যবহার করতে বলেন। তাঁর কথায়, ‘এখন আমাদের পেট্রল, ডিজেল ও গ্যাসের মতো পণ্য ব্যবহারে সংযমী হওয়া উচিত। এর ফলে শুধু বৈদেশিক মুদ্রারই সঞ্চয় হবে না, যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা মিলবে।’