• ৬ দিনের নাটক শেষ, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সুপারস্টার বিজয়
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • চেন্নাই: গত ৪ মে ছিল পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল। তামিলভূম তো বটেই, গোটা ভারতকেই সেদিন চমকে দিয়েছিল সুপারস্টার বিজয়ের দল টিভিকে। প্রথমবার ভোটে লড়েই ডিএমকে, এআইএডিএমকের মতো দলকে পিছনে ফেলে একক বৃহত্তম দল হিসাবে উঠে আসে তারা। কিন্তু তারপর থেকেই শুরু হয় ‘নাটক’। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই—এই যুক্তি দেখিয়ে গত ৬ দিন ধরে বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে দেননি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর। বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও না। কংগ্রেস কিন্তু আগেই বিজয়ের দল টিভিকে-কে সমর্থনের ঘোষণা করেছিল। সিপিআই, সিপিএমও। শেষে ইন্ডিয়ান মুসলিম লিগ এবং ভিসিকে বিজয়ের প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করায় ছ’দিনের জটিলতা কাটে। রবিবার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী 

    হিসাবে শপথ নিলেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। এদিন ‘থালাপতি’র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। 

    তামিলনাড়ুতে রাজনীতির সঙ্গে সিনেমার যোগ বহুদিনের। তবে কোনো মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে গণ-উন্মাদনা বহুদিন প্রত্যক্ষ করেনি দক্ষিণের এই রাজ্য। প্রিয় সুপারস্টারকে মুখ্যমন্ত্রী রূপে দেখতে হাজির ছিলেন কাতারে কাতারে জনতা। পোডিয়ামের সামনে এসে ‘আমি জোসেফ বিজয়’ বলার পর এক মুহূর্তের বিরতি। সঙ্গে সঙ্গে হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম। এমন দৃশ্যের 

    সঙ্গে দক্ষিণের বহু সিনেমার মিল পাচ্ছেন অনেকে। হাততালি থামার পর নিজস্ব ফিল্মি স্টাইলেই শপথবাক্য পাঠ করেন থালাপতি। বিজয়ের সঙ্গেই এদিন মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন কে জি অরুণরাজ, পি বেঙ্কটারামানন, সি টি আর নির্মল কুমার, এ রাজমোহন, কীর্তনা এবং কে টি প্রভু।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যে তিনি ভিন্ন পথে চলবেন, শপথের পর এদিন তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজয়। জানিয়েছেন, তাঁর সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু একমাত্র তিনিই। আর কোথাও কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র নেই। কোনো সুপারস্টার নয়, নিজেকে সাধারণ মানুষ বলেও উল্লেখ করেন বিজয়। বলেন, ‘আমি কোনো রাজপরিবারের সন্তান নই। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের সন্তান হয়ে আমি আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। তাই দারিদ্র্য কাকে বলে, আমি জানি। আমি আপনাদেরই মতো, আপনাদের পরিবারেরই একজন। আগেও বলেছি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আপনাদের প্রতারিত করব না। এটা একেবারে নতুন সূচনা। রাজ্যে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ, সামাজিক ন্যায়বিচারের যুগ শুরু হল।’ শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দায়িত্বভার নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ করেছেন বিজয়। এদিন প্রথম নির্দেশিকাতেই তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যবাসীকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুত্ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া মাদক সমস্যার মোকাবিলায় বিশেষ টাস্ক ফোর্স 

    এবং মহিলা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ বাহিনী গঠন ও একটি হেল্পলাইন চালুর নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। শিক্ষা, রেশন, ওষুধ, পানীয় জল, রাস্তা ও বাস পরিষেবার মতো বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেবে টিভিকে সরকার।

    এরই মধ্যে অবশ্য এদিন ডিএমকে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন বিজয়। তাঁর অভিযোগ, তামিলনাড়ুর মাথায় এখন ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চেপে 

    রয়েছে। ডিএমকে সরকার রাজ্যের কোষাগার সম্পূর্ণ ফাঁকা করে দিয়েছে। তামিলনাড়ুর আর্থিক পরিস্থিতি সুস্থির করতে রাজ্যবাসীর কাছে সময়ও চেয়ে নেন তিনি। এই নিয়ে শ্বেতপত্রও প্রকাশ করা হবে। বিজয়ের অভিযোগ নিয়ে দ্রুত মুখ খোলেন সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘তামিলনাড়ুর ঋণের মাত্রা সীমার মধ্যেই রয়েছে। এখনই বলবেন না যে, সরকারের কাছে কোনো টাকা নেই। গত ফেব্রুয়ারিতেই তামিলনাড়ুর আর্থিক 

    অবস্থা বাজেটে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলাম। আপনি কি সেটা জানেন না? মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর এসব বলছেন কেন?’ তবে, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিজয়কে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন স্ট্যালিন।
  • Link to this news (বর্তমান)