ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে নেই ইংরেজি শিক্ষকই! সরকারের কাছে দরবার
বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ছাত্র থাকলেও শিক্ষক নেই। কোনোরকমে ক্লাস সামাল দিচ্ছেন বাংলা মাধ্যমের শিক্ষকরা। এমন দশা শিলিগুড়ি বয়েজ ও গার্লস হাইস্কুলের ইংরেজি মাধ্যমের। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট দু’টি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, এর আগে রাজ্য সরকারের কাছে একাধিকবার দরবার করেও ইংরেজি মাধ্যমের জন্য শিক্ষক মেলেনি। এবার নতুন রাজ্য সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে দরবার করা হবে।
শিলিগুড়ি শহরে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের রমরমা। এমন প্রেক্ষাপটে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো এখানেও ইংরেজি মধ্যম স্কুল চালু করে রাজ্য সরকার। সেগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি গালর্স হাইস্কুল একটি। বাংলা মাধ্যমের পাশাপপাশি এখানে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি মাধ্যমে পঠন -পাঠন হয়। স্কুল সূত্রের খবর, পঞ্চম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত এই আটটি ইংরেজি মাধ্যম ক্লাসে ছাত্রী ৪০ জন করে প্রায় ৩২০ জন। কিন্তু ইংরেজি মাধ্যমের কোনো শিক্ষিকা নেই। বাংলা মাধ্যমের শিক্ষিকারাই ছাত্রীদের পড়ায়। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অত্যুহা বাগচি বলেন, বাংলা, ইংরেজি ও অঙ্ক বিষয়ের পঠন-পাঠন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু জীবন বিজ্ঞান, ভৌত বিজ্ঞান, ভূগোল ও ইতিহাস এই বিষয়গুলির পঠন-পাঠন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে ইংরেজি মাধ্যমের ক্লাসে। আমি দীর্ঘদিন বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে এখানে কাজে লাগাচ্ছিলাম। আর কয়েক মাস পর আমি অবসর নেব। তখন ইংরেজি মাধ্যমের ক্লাস কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না।
শহরের আরএকটি নামী স্কুল শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুল। এখানেও পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি মাধ্যমে পঠন-পাঠন হয়। স্কুল সূত্রে খবর, ২০১৮ সালে স্কুলে চালু হয় ইংরেজি মাধ্যমের ক্লাস। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত এই আটটি ক্লাসে এখানে ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৪৭০। ক্লাস পিছু ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৫৯ জন করে। কিন্তু ইংরেজি মাধ্যমের জন্য কোনো শিক্ষক নেই। গার্লস স্কুলের মতো এখানেও একইভাবে চলছে ইংরেজি মাধ্যম। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রদের একসঙ্গে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, একাধিকবার রাজ্য সরকারের কাছে ইংরেজি মাধ্যমের জন্য শিক্ষকের পদ সৃষ্টির দাবি জানিয়েও লাভয়নি। এমনকী, ক্লাসগুলি সুষ্ঠুমতো চালাতে ছ’টি বিষয়ে শিক্ষক চেয়েও পাওয়া যায়নি।
শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক উৎপল দত্ত ও গার্লসের প্রধান শিক্ষিকা অত্যুহা বাগচি দু’জনেই বলেন, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলির চাহিদা রয়েছে। তাই শিক্ষকের সমস্যা মেটাতে রাজ্য সরকারের কাছে দরবার করা হবে।