• পালাবদল হতেই এবার বুনিয়াদপুরে পুর প্রশাসক বোর্ড বদলের দাবি বিজেপির
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: বুনিয়াদপুর পুরসভা বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার  পাঁচ বছর পরও নির্বাচন হয়নি। বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ প্রশাসক বসিয়ে এতদিন কাজ চলেছে পুরসভার। রাজ্যে পালা বদলের পর এবার বুনিয়াদপুরেও প্রশাসক বদলের দাবি উঠেছে। যা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে দাবি করছে বিজেপি। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না করেই প্রশাসক বোর্ডের মাধ্যমে পুরসভা পরিচালিত হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে শহরবাসীর মধ্যেও। তাঁদের অভিযোগও, উন্নয়নের বদলে পুরসভায় পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতির সংস্কৃতি কায়েম হয়েছে।

    বিজেপির দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য দীপেশ বসাক বলেন, বুনিয়াদপুর পুরসভায় যাঁরা প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল লোপাট করতে না পারেন, সেজন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছে মহকুমাশাসকের কাছে। দুর্নীতির সমস্ত অভিযোগের তদন্ত হবে। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।

    নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষের পর পাঁচবছরে তিনবার প্রশাসক বদল করেছে তৃণমূল। তারপরও পুর পরিষেবা উন্নত হয়নি বলে ক্ষোভ ছিলই শহরবাসীর। নির্বাচনের আগে শহরের ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে সমীর সরকারকে চেয়ারম্যান করে তৃণমূল। শহরের বাসিন্দা অতুল মণ্ডল বলেন, পুরসভায় সাধারণ মানুষের পরিষেবা পেতে গেলে ঘুরপথে টাকা খরচ করতে হয়। আধিকারিকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো অফিসে আসেন। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই।

    অভিযোগ উঠেছে, শহরের বাসস্ট্যান্ডে অস্থায়ী স্টল বণ্টনেও মোটা টাকা তোলা হয়েছে। পাশাপাশি জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। বিজেপির দাবি, বর্তমান প্রশাসক বোর্ডকে শহরবাসী আর মেনে নিতে চাইছেন না। কুশমণ্ডিতে প্রধানমন্ত্রীর সভার সময় সাধারণ মানুষের জন্য জলের ট্যাংক চেয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে পুরসভার কাছে আবেদন জানানো হলেও তা নাকচ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির মতে, প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান সমীর সরকারের এই আচরণ নিম্নরুচির পরিচয় বহন করে। হরিরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বিপ্লব মিত্র জয়ী হলেও বিজেপির দাবি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও তাঁর ঘনিষ্ঠরাই এখনও পুরসভার ক্ষমতায় রয়েছেন। পুর চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তৃণমূল জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, শহরের পরিষেবা নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। সেটা কাটিয়ে আমরা শহরবাসীর কাছে গিয়েছিলাম।তারপরও জনসমর্থন আমাদের দিকে আসেনি। বিষয়টি আমরা দলীয়ভাবে পর্যালোচনা করে দেখব।
  • Link to this news (বর্তমান)