নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: রাজগঞ্জে ভূমিদপ্তর থেকে ‘উধাও’ হয়ে যাওয়া পাঁচ হাজার ফাইলের খোঁজে রবিবার ছুটির দিনেও তল্লাশি চলল। এদিন মাঝিয়ালি পঞ্চায়েতে রাজস্ব আধিকারিকের অফিসে তন্নতন্ন করে ‘লোপাট’ হওয়া ফাইলের খোঁজ চালান আদালতের নির্দেশে গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের (সিট) সদস্যরা। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো ফাইল পাওয়া গিয়েছে কি না তা নিয়ে কুলুপ এঁটেছেন তদন্তকারীরা।
তবে সূত্রের খবর, পানিকৌড়ি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত রেভিনিউ ইনসপেক্টরের অফিসে অভিযান চালিয়ে ‘উধাও’ ফাইল সংক্রান্ত কোনো তথ্য না মিললেও এদিন মাঝিয়ালি পঞ্চায়েতে রাজস্ব আধিকারিকের অফিসে দিনভর তল্লাশির পর ২৭৫টি ফাইলের হদিশ মিলেছে। রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে সেখানে কাগজপত্র খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনীয় তথ্য ল্যাপটপে আপলোড করতে দেখা যায় ভূমি আধিকারিকদের।
অভিযোগ, রাজগঞ্জ ভূমিদপ্তর থেকে ২০২১-’২৪ সালের মধ্যে মিউটেশনের পাঁচ হাজারেরও বেশি ফাইল ‘উধাও’। এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই গত জানুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ এনিয়ে সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেইমতো তদন্ত শুরু হলেও রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলে আসায় তা গতি হারায়। এখন ভোট মিটতেই ফাইলের খোঁজে ফের জোরদার তল্লাশি শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। ভূমিদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ফাইলের খোঁজে হন্যে হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন তাঁরা।
সিটের সদস্য রাজগঞ্জ থানার আইসি অমিতাভ দাস বলেন, আদালতের নির্দেশে তদন্ত চলছে। এদিন মাঝিয়ালি পঞ্চায়েতের অধীনে রেভিনিউ ইনসপেক্টরের অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু বলা সম্ভব নয়। রাজগঞ্জ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক গোপাল বিশ্বাস বলেন, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি আমি এই ব্লকের দায়িত্বভার নিয়েছি। কিন্তু ঘটনাটি আমার দায়িত্বগ্রহণের আগের। আদালতের নির্দেশে গঠিত টিম তদন্ত করছে। তদন্তের ব্যাপারে তারা আমাদের কাছে যেমন সহযোগিতা চাইছে, তা করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, মিউটেশনের ফাইল সবটাই ব্লক ভূমি সংস্কার দপ্তরে থাকার কথা। কিন্তু সমস্ত ফাইল রেভিনিউ ইনসপেক্টরের অফিসে রাখতে বলা হয়েছিল। সেখান থেকেই কি সমস্ত ফাইল ‘গায়েব’ হয়ে গিয়েছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এর পিছনে রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের কোনো হাত রয়েছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজগঞ্জে জমি কেনা-বেচায় কোনো অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ ধামাচাপা দিতেই কি মিউটেশন ফাইল ‘গায়েব’ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরকারি অফিস থেকে কীভাবে ফাইল ‘উধাও’ হয়ে গেল, তা নিয়ে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির জয়ী বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূলের আমলে রাজগঞ্জে সরকারি কাজে প্রচুর অনিয়ম হয়েছে। এরই নয়া সংযোজন, ভূমিদপ্তরে ফাইল ‘লোপাট’ কেলেঙ্কারি। দপ্তরের আধিকারিক, কর্মীরা দায় এড়াতে পারেন না। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হোক। রাজগঞ্জের জয়ী বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকারের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজগঞ্জে জমি কেনাবেচায় চরম অনিয়ম