• সিসি ক্যামেরা ভেঙে লুট কয়েক কোটির সোনা, গোল্ড লোন প্রদানকারী সংস্থায় ডাকাতি, চাঞ্চল্য
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ইটাহার: গভীর রাতে রেকি করে দুঃসাহসিক ডাকাতি ইটাহারে। গ্যাস কাটার দিয়ে শাটার ও একাধিক লোহার গেটের তালা কেটে গোল্ড লোন প্রদানকারী সংস্থার অফিসে ডাকাতি হয়। রবিবার ভোরে ইটাহারের চৌরঙ্গী মোড়ে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। সংস্থার অফিসের ভল্ট কেটে কয়েক কোটি টাকার সোনা ও নগদ লুট করেছে দুষ্কৃতীরা।

    পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার গভীর রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে এই অপারেশন চললেও অ্যালার্ম বাজেনি। অফিসে ছিল না কোনো নৈশপ্রহরীও। এতে সন্দেহ বাড়ছে। সাতজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

    জাতীয় সড়কের ধারে সংস্থার অফিসটি ছিল দোতলায়। পিছনে রয়েছে জঙ্গল ও বসতি। পুলিশের অনুমান, দুষ্কৃতীরা পিছনের জঙ্গল দিয়ে প্রথমে কার্নিশ বেয়ে উপরে উঠে। তারপর সংস্থার মূল গেটের সামনের গ্রিল কেটে ভিতরে ঢোকে। মূল গেটের শাটার ও লোহার গেটের তালা কেটে বায়োমেট্রিক ডিভাইস যুক্ত কাচের গেট খুলে ভিতরে ঢুকে দু’টি লোহার গেট ও কাঠের গেটের তালা কাটে। তারপর ভল্ট থেকে গ্রাহকদের গচ্ছিত সোনা ও নগদ লুট করেছে। এরপর সংস্থার ভিতরে এবং বাইরে তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে চম্পট দেয়। ভোরে পালানোর সময় কয়েকজনকে দেখতে পান এলাকার এক সবজি ব্যবসায়ী। প্রত্যক্ষদর্শী হিরেন প্রধান বলেন, সাড়ে চারটে নাগাদ হালকা অন্ধকার থাকায় কাউকে চিনতে পারিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এসডিপিও মহম্মদ বদিউজ্জামান ও ইটাহার থানার আইসি অভিষেক তালুকদার।

    পুলিশ ঘটনাস্থল দেখার পর চৌরঙ্গী মোড় এলাকার একাধিক দোকান ও রাস্তার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে। স্থানীয়দেরও  জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অফিসের সিসি ক্যামেরার হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। 

    পুলিশের দাবি, প্রমাণ লোপাটের জন্য অফিসের সিসি ক্যামেরা ভাঙার পাশাপাশি হার্ড ডিস্কের তার কেটে ক্যামেরা বিকল করা হয়েছে। সংস্থার ম্যানেজার ভাস্কর মহন্ত বলেন, রাতে কোনো গার্ড ছিল না। অ্যালার্মও বাজেনি। যদিও এর কারণ জানাতে পারেননি তিনি। কত টাকার সোনা ও নগদ লুট হয়েছে তা স্পষ্ট করে বলতে না পারলেও অনুমান সবমিলিয়ে কয়েক কোটির গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছে ডাকাত দলটি।

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অফিসের রেজিস্টারে বেশ কিছু গরমিল ধরা পড়েছে। কর্মীদের কথাতেও অসঙ্গতি রয়েছে। সংস্থার মূল গেট লাগোয়া ঘরে স্থানীয় এক ওষুধের দোকানের কর্মী ঘুমিয়ে থাকলেও তিনি কিছু টের পাননি। তদন্তের স্বার্থে ওই কর্মী এবং সংস্থার ৬ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। 

    পুলিশের দাবি, আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে এই লুটপাট চলেছে। ওই ডাকাতির সঙ্গে বিহার বা ঝাড়খণ্ড গ্যাংয়ের যোগ থাকতে পারে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে স্পষ্ট, গভীর রাতে সংস্থার নীচে তিনজন ঘোরাঘুরি করছে। ফলে তদন্তকারীরা নিশ্চিত, আগে থেকে রেকি করে এই অপারেশন চালানো হয়েছে। দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত গাড়ির খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। ইটাহার থানার আইসি বলেন, সংস্থার ম্যানেজার সহ সন্দেহভাজন সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ইটাহার শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভয়াবহ ডাকাতি হওয়ায় আতঙ্কে স্থানীয়রা। এলাকার ব্যবসায়ী সুনীল বসাক বলেন, এত বড়ো ডাকাতি হবে। কল্পনাও করতে পারছি না। • নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)