• খগেশ্বরের ও নিজের বুথে স্বপ্না জিতলেও বেশিরভাগ পঞ্চায়েতে ভরাডুবি তৃণমূলের
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: স্বপ্না বর্মন, খগেশ্বর রায়ের ও নিজের বুথে জিতলেও রাজগঞ্জের বেশিরভাগ পঞ্চায়েতে মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একইসঙ্গে সিংহভাগ বুথে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে দুই অঙ্ক পেরতে পারেনি বামেরা। একলা লড়াই করে রাজগঞ্জে নোটার চেয়ে খুব বেশি ভোট পায়নি কংগ্রেস। অনেক বুথে আবার হাত শিবিরের ঝুলিতে কোনো ভোট আসেনি। অর্থাৎ শূন্য পেতে হয়েছে তাদের। কেন এমন ফল, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে চর্চার পাশাপাশি চলছে দোষারোপের পালা।

    এবারের নির্বাচনে রাজগঞ্জে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। পাতকাটা পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়া এলাকায় ১৯৭ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। পাতকাটা বিএফপি স্কুলে এবার সবার প্রথমে ভোট দেন স্বপ্না। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নিজের বুথে স্বপ্না এগিয়ে রয়েছেন। ১৮/১৯৭ নম্বর বুথে বিজেপি যেখানে ৩১২ ভোট পেয়েছে, সেখানে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৩৭৯। স্বপ্নার বুথে বামেরা ভোট পেয়েছে ৩৪টি। কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে মাত্র তিনটি ভোট। অন্যদিকে, রাজগঞ্জের চার বারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায় শিকারপুর পঞ্চায়েতের পাতিলাভাসার ৬৮ নম্বর বুথের ভোটার। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে খগেশ্বরবাবুর বুথে বিজেপির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। ওই বুথে বিজেপি পেয়েছে ৩৬২ ভোট। তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে ৪৬৯ ভোট। খগেশ্বর রায়ের বুথে বামেদের প্রাপ্ত ভোট ১৭টি। তিনটি ভোট পেয়েছে কংগ্রেস।

    তবে রাজগঞ্জ বিধানসভার বারোটি অঞ্চলের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। আর সেকারণে ২০০৯ সাল থেকে জোড়াফুল শিবিরের দখলে থাকা এই বিধানসভা এবার হাতছাড়া হয়েছে তাদের। ২১ হাজারের বেশি ভোটে রাজগঞ্জে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকার। বিন্নাগুড়ি পঞ্চায়েতে ৭ হাজার ৬২৬ ভোটে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। এই পঞ্চায়েতের অধীনে রয়েছে ১৮-৫৪ নম্বর বুথ। দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৬টি বুথে অল্প ভোটে লিড পেয়েছে জোড়াফুল শিবির। বাকিগুলিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। বিন্নাগুড়ি পঞ্চায়েতে বিজেপি যেখানে ১৮ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়েছে, সেখানে তৃণমূলের প্রাপ্তভোট ১০ হাজার ৮৫২টি। কুকুরজান পঞ্চায়েতেও ১৩৫৬ ভোটে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। 

    সংখ্যালঘু অধ্যুষিত সুখানি পঞ্চায়েতে বরাবর প্রচুর ভোটে লিড দেয় তৃণমূল। কিন্তু এবারের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, জোড়াফুলের লিড থাকলেও তা নেমে এসেছে চার হাজারের নীচে। পাহাড়পুর, বারোপেটিয়া, পাতকাটা ও বেলাকোবা—এই চারটি পঞ্চায়েতেও আশানুরূপ ফল করতে পারেনি তৃণমূল।

    রাজগঞ্জে দলের যে ফল হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়। খারাপ ফলের পিছনে একাধিক কারণ থাকলেও প্রার্থী বদল অন্যতম বলে তাঁর ধারণা। একইসঙ্গে রামে যাওয়া ভোট বামেরা ফেরাতে না পারায় বিজেপির জয় হয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের অনেকে। বিজেপির জয়ী প্রার্থী দীনেশ সরকারের অবশ্য দাবি, রাজগঞ্জের মানুষ তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে ঢেলে ভোট দিয়েছেন আমাদের।

    রাজগঞ্জে যেখানে বিজেপি প্রার্থী ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৬৫৭ ভোট পেয়েছেন, সেখানে তৃণমূলের প্রাপ্তভোট ৯৩ হাজার ১৮০। বামেরা পেয়েছে ৬ হাজার ৩৭১ ভোট। নোটা যেখানে ১৩২২ ভোট পেয়েছে, সেখানে কংগ্রেসের প্রাপ্তভোট ১৪৬০।
  • Link to this news (বর্তমান)