• একাধিক স্ট্যান্ডে কনভয় থামিয়ে শুভেন্দুকে বরণ, রাত দুটোয় ঢুকলেন কাঁথির শান্তিকুঞ্জে
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর অনেক রাতে নিজের জেলায় আবেগ ও উন্মাদনায় ভেসে শান্তিকুঞ্জে ফিরলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাত ১১টায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় কোলাঘাট শরৎ সেতু পার করে পূর্ব মেদিনীপুরে ঢোকে। তারপর কোলাঘাটে তাঁর কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীরা ফুল, পুষ্পস্তবক নিয়ে ভিড় করেছিলেন। উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, পাঁশকুড়া পূর্বের বিজেপির জয়ী প্রার্থী সুব্রত মাইতি। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা, পিংলা এবং দক্ষিণ ২৪পরগনার ভাঙড় থেকেও কর্মীরা এসে কোলাঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। কোলাঘাটে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন মুখ্যমন্ত্রী। রাত ১২টা ২১মিনিট নাগাদ কোলাঘাট থেকে কাঁথির উদ্দেশে রওনা দেন।

    মুখ্যমন্ত্রীর স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের(এসপিজি) লম্বা কনভয় যখন কোলাঘাট থেকে কাঁথির উদ্দেশে ছুটছিল তখন রাস্তার দু’ধারে বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীরা স্বাগত জানানোর জন্য জড়ো হন। রাস্তার দু’ধারে পুলিশ আর সিভিকে ছয়লাপ। তমলুকের নিমতৌড়ি, নন্দকুমারের খঞ্চি, ভগবানপুরের বাজকুল, খেজুরির হেঁড়িয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় থামে। বিজেপি নেতা-কর্মীরা নতুন মুখ্যমন্ত্রী ঘরের ছেলেকে পদ্মফুল, পুষ্পস্তবক ও ফুলের মালায় বরণ করেন। ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন। অত রাতেও বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

    দলের নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছায় ভেসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় রাত ২টো নাগাদ পৌঁছয় কাঁথি শহরে। সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড থেকে শান্তিকুঞ্জ পর্যন্ত জনতার লম্বা লাইন দেখা যায়। রাজ্য প্রশাসনের প্রধান শুভেন্দু অধিকারীর নামে জয়ধ্বনি ওঠে। রাত ২টোয় শান্তিকুঞ্জের চারপাশে জনজোয়ার দেখা যায়। গাড়ি থেকে শুভেন্দুবাবু নামতেই কেউ পদ্মফুল, কেউ গেরুয়া উত্তরীয় আবার কেউ ফুলের মালায় স্বাগত জানাতে এগিয়ে যান। অত রাতে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের সামনে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জনতার সামনে মাথা নত করে জোড়হাতে নমস্কার করে ঘরের ভিতর প্রবেশ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুবাবু।

    রবিবার সকাল থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর সহ আশপাশের জেলা থেকে লোকজন শান্তিকুঞ্জের সামনে চলে আসেন। বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর ঢল নামতে শুরু করে। নিজের বাড়ির সামনে যাতে অযথা গার্ডরেল দিয়ে মানুষজনের চলাচলে কোনও সমস্যা না হয় সেই নির্দেশ এসপিজিকে দেন শুভেন্দুবাবু।

    রবিবার বিকালে মুখ্যমন্ত্রী কাঁথির বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। তখনও বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষ এসে ভিড় জমান। বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবেগে ভাসেন মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সকলে। 

    রবিবার সকালে পাঁশকুড়া থানা এলাকায় ১৬নম্বর জাতীয় সড়কের মাঝে ডিভাইডারে শুভেন্দুবাবুর ছবি সমেত মুখ্যমন্ত্রী স্বাগতম ফ্লেক্সে ছয়লাপ। তমলুকের নিমতৌড়িতে শুভেন্দুবাবুর হাত থেকে একসময় বিজেপি পতাকা তুলে নেওয়া আফজল শা-র উদ্যোগে ওই ফ্লেক্স লাগানো হয়। তিনি বলেন, আমার ভাই কুরবান শা সাত বছর আগে তৃণমূল কংগ্রেস করতে গিয়ে আততায়ীদের হাতে খুন হন। তাতে ওই দলের লোকজনই জড়িত ছিল। পরিবারের কঠিন সময়ে শুভেন্দুবাবু আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ভরসা জুগিয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)