• ডিপফেক ছবি বানিয়ে মহিলাদের ব্ল্যাকমেল, গ্রেপ্তার বিহারের যুবক
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মহিলাদের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ‘এআই’-এর কারসাজিতে সেগুলিকে কুরুচিকর ও অশ্লীল রূপ দেওয়া হতো। তারপর সেইসব ডিপফেক ছবি ও ভিডিও দিয়ে ওই মহিলাদের ব্ল্যাকমেল করা হতো। এমনই এক ভয়ংকর চক্রের পর্দাফাঁস করল জঙ্গিপুর সাইবার থানার পুলিশ। শনিবার রাতে এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বিহারের কিষাণগঞ্জ থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারীরা। ধৃতের নাম সাহিদ আলম। তার বাড়ি কিষাণগঞ্জের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। ধৃতকে রবিবার সকালে জঙ্গিপুরে মহকুমা আদালতে তোলা হয়। ধৃতের পাঁচ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রে আর কেউ জড়িত কি না এবং কতজন মহিলা এর শিকার হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখতে জেরা করবে পুলিশ।

    এ প্রসঙ্গে জঙ্গিপুর সাইবার থানার এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বিহারের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের কারসাজির ধরন ছিল অত্যন্ত চতুর। সে মূলত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মহিলাদের প্রোফাইল লক্ষ্য করত। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে সেখান থেকে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ডাউনলোড করে নিত। তারপর এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলিকে বিকৃত করে চূড়ান্ত অশ্লীল ভিডিও বা ছবি তৈরি করত। এরপর সেইসব কুরুচিকর কন্টেন্ট সংশ্লিষ্ট মহিলাদের পাঠিয়ে মোটা টাকা দাবি করত সে। টাকা না দিলে সেইসব ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রীতিমতো মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ফরাক্কার এক যুবতী এই চক্রের খপ্পরে পড়েন। যুবতীর ছবি ফেসবুকে ভাইরালও করে দেয়। সাহিদের পাঠানো অশ্লীল ভিডিও দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি চুপ না থেকে সাহসের সঙ্গে জঙ্গিপুর সাইবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। সাইবার সেলের আধিকারিকরা প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সাহিদের গতিবিধি ট্র্যাক করতে শুরু করেন।

    তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত যুবক প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের কিষাণগঞ্জে রয়েছে। এরপরই সাইবার থানার একটি বিশেষ দল সেখানে হানা দিয়ে সাহিদ আলমকে পাকড়াও করে। ধৃতের কাছ থেকে মোবাইল সহ কিছু ইলেকট্রনিক গ্যাজেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ।
  • Link to this news (বর্তমান)