জাল এসটি শংসাপত্রে চাকরি করলে বরখাস্ত, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সিদ্ধান্ত: ক্ষুদিরাম
বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: জাল জাতিগত শংসাপত্র জমা দিয়ে সুবিধাপ্রাপকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে সদ্য গঠিত বিজেপি সরকার। শপথ নেওয়ার পর রবিবার বাঁকুড়ায় ফিরে একথা জানিয়েছেন নতুন সরকারের মন্ত্রী তথা রানিবাঁধের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। সুবিধাপ্রাপকদের পাশাপাশি জাল শংসাপত্র বিলির সঙ্গে জড়িত সরকারি কর্মী-আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ক্ষুদিরামবাবুকে এদিন বিজেপি-র বাঁকুড়া জেলা কার্যালয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আমি জাল জাতিগত শংসাপত্র বিলি সংক্রান্ত ইস্যুটি তুলব। জাল শংসাপত্র বাতিল করে আমাদের সরকার সুবিধাপ্রাপকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে। শংসাপত্র বিলি চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানীয় জল সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাঁকুড়ায় অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আমরা সেগুলি অগ্রধিকারের ভিত্তিতে করব। সেই সঙ্গে জঙ্গলমহলে উন্নয়নের নামে দুর্নীতির তদন্ত করা হবে। দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জাতিগত শংসাপত্র বিভাগ কার্যত ঘুঘুর বাসায় পরিণত হয়েছে। লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে তফসিলি জাতির শংসাপত্র ‘বিলি’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলায় জেলায় প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন কর্মী ওই কারবার ফেঁদে বসেছিল। জলপাইগুড়ি থেকে তোলা জাল শংসাপত্র নিয়ে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজে এক ছাত্রী ভরতি হয়েছিল। বিষয়টি গোচরে আসতেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। বাঁকুড়ার পাশাপাশি মালদহ সহ আরও কয়েকটি জেলায় ওই চক্রের চাঁই ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে। কয়েকমাস আগে মালদহে শংসাপত্র বিভাগের অভিযুক্ত দুই কর্মীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ‘ভিজিল্যান্স’ তদন্ত শুরু করা। তারা টাকার বিনিময়ে শংসাপত্র বিলি করছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার আগে বেশ কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। নথির সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্যর শংসাপত্রের প্রত্যয়িত নকল জমা দিতে হয়।
প্রশাসনের তরফে তা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে তবেই শংসাপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াও অনেকে শংসাপত্র পেয়ে গিয়েছে। তারজন্য তাদের মোটা টাকা গুনতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের একাংশ ওই টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ। কীভাবে চলত ওই চক্র? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শংসাপত্রের জন্য আবেদনপত্র জমা নেওয়ার সময় চক্রের পান্ডারা ‘টার্গেট’ চিহ্নিত করে ফেলত। কার আবেদনপত্র ত্রুটিপূর্ণ তা তারা প্রথমে দেখে নিত। প্রয়োজনীয় নথি নেই এমন আবেদনপত্রগুলিকে পৃথক করা হত। পরে আবেদনকারীদের ফোন করে অফিসে ডেকে নেওয়া হত। নথির ঘাটতির কথা জানিয়ে আবেদনপত্র বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হত। তা শুনে আবেদনকারী কাকুতি-মিনতি করলেই সরাসরি টাকা দাবি করা হত। সাধারণ শ্রেণিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অনেকে দালালদের মাধ্যমে জাতিগত শংসাপত্র জোগাড় করে পড়াশোনা ও সরকারি চাকরিতে সুবিধা নিয়েছে বলে আদিবাসী সংগঠনগুলি বারবার অভিযোগ করেছে। এনিয়ে বাঁকুড়া মেডিকেলে বিক্ষোভ ডেপুটেশন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। নতুন সরকার যথাযথ তদন্ত করলে কেঁচো খুড়তে কেউটে বের হবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।