সংবাদদাতা, কাটোয়া: তৃণমূল হারতেই কাটোয়া ও আউশগ্রামজুড়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে ‘পরিযায়ী’ কর্মীদের৷ প্রতি মুহূর্তেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন তারা। যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
অনেকেই বলছেন, তারা স্রোতে গা ভাসাতে চাইছেন। যাতে নতুন দলে সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়৷ কয়েকদিন আগে পর্যন্ত তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিজেপি নেতাদের ছবি পোস্ট করে অনেকেই নিন্দা, সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিত৷ তারাই এখন সেইসব গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে৷ কয়েকদিন আগে কাটোয়া শহরের এক শিক্ষককে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে নেট দুনিয়াতে৷ ওই শিক্ষক তৃণমূলে কাটোয়ার তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে সরাসরি প্রচারে নেমেছিলেন৷ তিনি তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের সদস্য। স্কুলে তাঁর মাতব্বরি এলাকার মানুষ দেখেছিলেন৷ তাঁকে নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছিল৷ ভোটের সময় রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবিও রয়েছে৷ রাতারাতি তাঁর ভোল বদলেছে। বিজেপির জয়ী প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষের সঙ্গে এখন তিনি ছবি তুলতে ব্যস্ত৷ আর এটা নিয়ে শহরে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে৷ অনেকেই বলছেন, স্কুলে তাঁর সঙ্গে তখন যা ঘটেছিল, তাতে পিঠ বাঁচাতে তৃণমূলে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল৷ আবার এখন শাসক দল বিজেপির সঙ্গে গা ঘষাঘষি করতে চাইছে৷
কাটোয়ার তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা সঞ্জয় সাহা বলেন, এখন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ অনেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন৷ এরা দলের সুসময়ের কর্মী৷ দুঃসময়ে নয়৷
কাটোয়া-২ ব্লকের কড়ুই অঞ্চল তৃণমূলের গ্রুপ কার্যত ফাঁকা হতে বসেছে৷ পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে দুটি গ্রুপ থেকে প্রতিদিন কেউ না কেউ বেরিয়ে যাচ্ছেন৷ আউশগ্রামেও একই চিত্র৷ তৃণমূলের এক নেতা বলছেন, দলের পদস্থ নেতারা তখন বেনোজলের উপরেই ভরসা করেছিল৷ তাই এমন ভরাডুবি হয়েছে৷ এরা সব ‘পরিযায়ী কর্মী’৷ এখন আসল কর্মী চেনার সময় এসেছে৷ আউশগ্রামের বিল্বগ্রাম এক তৃণমূলের পুরানো নেতাকে কার্যত বসিয়ে রাখা হয়েছিল দিনের পর দিন৷ ওই নেতা হোয়াটসঅ্যাপে বার বারই দলের ভুল ত্রুটি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন৷ প্রচারের শেষ মুহূর্তে তাঁকে মাত্র কয়েকটি জায়গায় নামানো হয়েছিল৷ আউশগ্রামে কয়েকজন মাতব্বরের জন্য দলের এমন হাল হয়েছে বলে মত সেখানকার নেতাদের৷ কেতুগ্রামে দলের অনেক দুর্দিনের কর্মী সোশ্যাল মিডিয়াতে এখন সরব হচ্ছেন৷ তাঁদের অভিযোগ, ২০১১ সালে দলটাকে রক্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁরা৷ ঘাম ঝরিয়ে সিপিএমের লাল চোখ উপেক্ষা করে তাঁরা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন৷ আর শেষে ঠিকাদারদের উপরেই দলের সাংগঠনিক ভার তুলে দেওয়া হয়েছিল৷ তাই এমন হাল হয়েছে সেখানে৷ কেতুগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে এক ঠিকাদারকে প্রচারের শেষ দিনেও মঞ্চে বসিয়ে সম্মান জানানো হয়েছিল৷ তাতে দলের অনেক পুরানো বয়স্ক কর্মীর অভিমান হয়েছিল৷ এখন তাঁরা মুখ খুলছেন৷
কেতুগ্রামের নিরোল গ্রামের তৃণমূলের এক পুরানো কর্মী বলছেন, প্রতিটি অঞ্চলে ঠিকাদার রাজ চালানো হয়েছে৷ মিটিং মিছিলে ‘পেইড ওয়ার্কার’ দের নিয়ে যাওয়া হতো৷ তাতে যা হওয়ার হয়েছে৷ ওইসব ‘পেইড ওয়ার্কার’রা এখন দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ত্যাগ করছে৷
পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আগামী ১২ মে থেকে আমরা আবার ময়দানে নামব৷ জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ভাঙচুর, মারধর নিয়ে অভিযোগ জানাব৷