নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে ১৫ বছর বাদে নতুন সরকার এসেছে বাংলায়। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন একদা গত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। স্বাভাবিকভাবেই প্রতশ্রিুতি পূরণের পাহাড়প্রমাণ চাপ রয়েছে তাঁর উপর। জনগণও নজর রাখছে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে। এই আবহে শহরবাসীদের কথায় উঠে এল অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু চাহিদার কথা। সবার আগে তাঁরা চাইছেন রাস্তায় পর্যাপ্ত বাস। স্থায়ী চাকরি, কর্মসংস্থান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বিজেপির প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চাইছে জনতা। বেকার ভাতা কীভাবে পাওয়া যাবে? ‘স্বাস্থ্যসাথী’ নাকি ‘আয়ুষ্মান ভারত’? এসব প্রশ্নও ঘুরছে আম জনতার মুখে মুখে।
বারুইপুর থেকে প্রতিদিন পার্ক স্ট্রিটে কাজে আসেন নির্মল রায়। তিনি বলছিলেন, ‘এখন রাস্তায় বাসের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। বেশিরভাগ দিনই ২১৮ নম্বর বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। উপায় না থাকলে বেশি টাকা খরচ করে ভেঙে ভেঙে আসতে হয়। অটোর ভাড়াও এখন বেড়ে গিয়েছে। রাতে ফেরার সময় সমস্যা তো আরও বেশি।’ ই এম বাইপাসের মতো ব্যস্ত সড়কে রাতের দিকে বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে বলে জানালেন একাধিক নিত্যযাত্রী। কথায় কথায় তাঁরা জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি বাসের ভাড়া সংক্রান্ত সরকারি কোনো তালিকা নেই। এর ফলে নিত্যযাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়। ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি, উত্তেজনা তৈরি হয় কন্ডাকটরের সঙ্গে। এই অবস্থায় শহরবাসীর অন্যতম দাবি, ‘রাস্তায় বাস চাই’। প্রসঙ্গত, বিজেপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল, সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন।
‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর কী হবে? যাঁরা রাজ্য সরকারের এই আর্থিক সহায়তা পেতেন, নয়া সরকার তাদের প্রতিশ্রুতিমতো ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করলে তাঁরা প্রত্যেকেই কি তা পাবেন? এনিয়েও প্রশ্ন রয়েছে মহিলাদের মধ্যে। হরিদেবপুরের বাসিন্দা অসীমা ঘোষ বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তো এবার বন্ধ হয়ে যাবে। ভোটের আগে বিজেপি বলেছিল ৩ হাজার টাকা দেবে। সেটা কবে থেকে শুরু হবে? কীভাবে ফর্ম জমা দেওয়া হবে? এসব তো আমরা কিছুই জানি না। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দ্রুত চালু হোক।’ এর পাশাপাশি বেহাল রাস্তাঘাট, জল জমার সমস্যা থেকে কবে মুক্তি মিলবে—এসব প্রশ্নও শোনা যাচ্ছে। বেহালা পর্ণশ্রীর বাসিন্দা কুন্দন শর্মা বলছিলেন, ‘মাত্র দু’দিন আগে আধঘণ্টার বৃষ্টিতে পর্ণশ্রী পল্লিতে অনেক জল জমে গিয়েছিল। এখানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন দরকার। পুরসভার বোর্ড তো তৃণমূলের। বিজেপি সরকার কি দ্রুত এই কাজ করতে পারেব?’
তরুণ প্রজন্মের চাহিদা হল স্থায়ী চাকরি। বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা সন্দীপ্তা সাহার কথায়, ‘আমাদের একটা স্থায়ী চাকরি দরকার। এই বাংলাতেই থাকতে চাই। বেসরকারি কোম্পানিতে দিনরাত কাজ করেও না আছে উপার্জনের নিশ্চয়তা, না আছে স্থায়িত্ব। সরকার শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করুক।’ সর্বোপরি শহরবাসীর চাওয়া, রাজ্যে বজায় থাকুর শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির পরিবেশ।