• প্রতি কেন্দ্রে গরহাজির ১২ হাজার মহিলা! ভোটে দক্ষিণ কলকাতা ও শহরতলির হিসাবে শোরগোল
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পশ্চিমবঙ্গে বরাবর ভোটদানের হার তুলনামূলক বেশি থাকে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নানা কারণে ভোটদানের হার ছিল আরও বেশি। যথারীতি বুথে বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। সেখানে মহিলাদের মধ্যে ভোটদানের উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রাম থেকে শহর, সকাল, দুপুর বা বিকালে পুরুষদের তুলনায় মা-বোনেদের লাইন ছিল বেশি লম্বা। বাংলায় মহিলা ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহের কথা মাথায় রেখেই প্রচার পরিকল্পনা সাজিয়েছিল বিভিন্ন দল। মহিলা ভোটারদের জন্য প্রতিশ্রুতির ঝুলি উপুড় করে দিতে কার্পণ্য করেনি তৃণমূল-বিজেপি। কিন্তু নির্বাচন পর্ব মিটে যাওয়ার পর বিশ্লেষণে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন বিধানসভায় গড়ে ১২ হাজার মহিলা ভোটার ভোটই দেননি। কোনো কেন্দ্রে সংখ্যাটা ১০ হাজার তো কোথাও তা ১৫-২০ হাজার। সোনারপুর দক্ষিণ, ডায়মন্ডহারবার, টালিগঞ্জ, মহেশতলা সহ অনেক কেন্দ্রে এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এবার এসআইআরের পর যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত হয়েছে, তার ভিত্তিতে হয়েছে ভোট। ফলে এটা ধরে নেওয়া যায় যে, হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম ছিল না তালিকায়। তারপরও কেন বিপুল সংখ্যক মহিলা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত থাকলেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। 

    জেলার শহরাঞ্চলের বিধানসভাগুলিতে এমনিতেই পুরুষদের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা অনেকটা বেশি। ভোটের আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধরেই নিয়েছিলেন, এসব কেন্দ্রে মহিলা ভোটাররা ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠবেন। এখন দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার মহিলা বুথমুখোই হননি। যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কথাই ধরা যাক। এই কেন্দ্রে মোট মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৩০১। ভোট দিয়েছেন ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৭৬১ জন। কসবায় ভোট দিয়েছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার ৯৭৭ জন মহিলা। অথচ এখানে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ১৬৬। সোনারপুর দক্ষিণেও কমবেশি একই ছবি সামনে এসেছে। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় ভোটদানে বিরত থাকার মহিলার সংখ্যা কম। তবে ডায়মন্ডহারবার, বারুইপুর পশ্চিম, মহেশতলা ইত্যাদি কেন্দ্রে কোথাও ৬ হাজার, কোথাও ৫ হাজারের বেশি মহিলা ভোট দেননি। 
  • Link to this news (বর্তমান)