• আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে রাজ্যের পূর্ণমন্ত্রী, পাড়ার ছেলে অশোকের লড়াইকে কুর্নিশ গ্রামবাসীদের
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বনগাঁ: ছোটোবেলা থেকেই বন্ধুকে কঠোর সংগ্রাম করতে দেখেছেন বনগাঁর পাইকপাড়ার বাসিন্দা শুভাশিস বিশ্বাস (বাপি)। অভাবের সংসার। জীবন সংগ্রাম চালাতে গিয়ে সেই বন্ধুকে কখনও দেখা গিয়েছে চাষের মাঠে, কখনও আইসক্রিম বিক্রি করতে। একটা সময় ছিল, যখন তাঁকে ভ্যান চালিয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতেও দেখা গিয়েছে। দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা সেই বন্ধুই আজ রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। বন্ধুকে মন্ত্রী হিসাবে দেখে বেজায় খুশি শুভাশিস। তিনি বলেন, ‘ও ছোটো থেকেই কঠোর পরিশ্রম করত। ভ্যান চালানো, আইসক্রিম বিক্রি— কোনো কাজকেই কখনও ছোটো করে দেখেনি। অল্প বয়স থেকেই অশোক গরিব মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিলি, বস্ত্র বিলি ইত্যাদি সামাজিক কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে। আজও একইভাবে গরিবদের পাশে দাঁড়ায়। আমি গর্বিত এমন এক বন্ধু পেয়ে।’

    শনিবার রাজ্যে নতুন সরকার শপথ নিয়েছে। শপথ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও পাঁচজন মন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন বনগাঁর বিধায়ক ‘আইসক্রিম বিক্রেতা’ অশোক কীর্তনিয়া। সেই আইসক্রিম বিক্রেতা এখন মন্ত্রী, বিশ্বাসই হচ্ছে না পাড়ার বাসিন্দাদের। অরুণ সরকার নামে স্থানীয় এক আইসক্রিম বিক্রেতা বলেন, ‘ওকে ছোটোবেলা থেকে দেখছি। খুব গরিব ঘর থেকে উঠে এসেছে। ওর জন্য গর্ব হচ্ছে।’ শনিবার মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই বনগাঁজুড়ে শুরু হয়েছে অকাল হোলি। আনন্দে মেতেছেন সবাই।

    অষ্টম শ্রেণিতে যখন পড়তেন, তখন থেকেই অশোকবাবু বাবার সঙ্গে কাজ করতেন মাঠে। এরপর শুরু করেন ফলের ব্যবসা। কিছুদিন ভ্যানও চালান। বনগাঁর মতিগঞ্জে আইসক্রিম কারখানা থেকে কাঠের বাক্সে আইসক্রিম নিয়ে ট্রেনে করে কলকাতায় যেতেন। মাথায় বাক্স নিয়ে হাঁক দিতেন, ‘আইসক্রিম নেবে গো আইসক্রিম...’। মাধ্যমিক পাশ করার পর টিউশন পড়ানো শুরু করেন তিনি। কলেজে পড়ার টাকা জোগাড় করতে ব্যবসায় নামেন অশোক কীর্তনিয়া। কিছুদিন মাছের দোকানে খাতা লেখার কাজও করেছেন। এখন সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছালেও নিজের অতীত ভোলেননি মন্ত্রীমশাই। রবিবার সকালে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সাতভাই কালীতলা মন্দিরে পুজো দেন তিনি। এরপর যান আদি বাড়ি পাইকপাড়ায়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রাণখুলে কথা বলেন। ভোটের আগে দক্ষিণপাড়ায় তৃণমূলের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল বিজেপি কর্মীদের। রবিবার সেখানে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, অশোক কীর্তনিয়া না জিতলে আমাদের গ্রাম ছাড়তে হতো। গ্রামবাসী অসুস্থ গোপাল মণ্ডলের বাড়ি গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি। বলেন, আমি উপলক্ষ মাত্র। মানুষের জন্যই আজ আমি মন্ত্রী। মানুষের কষ্ট বুঝি। তাই মন্ত্রী হয়ে মানুষের পাশেই থাকতে চাই। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)