বাদুড়িয়ায় ভরাডুবি হাতের, চতুর্থ স্থানে নেমে জামানাতও জব্দ হল প্রার্থী দিলুর!
বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: ফলাফল ঘোষণার পর বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এল কংগ্রেসের ভরাডুবি। একসময় যে কেন্দ্রে কংগ্রেসই ছিল প্রধান শক্তি, সেই বাদুড়িয়াতেই এবার তাদের অস্তিত্বের সংকট তৈরি হয়েছে। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রহিম কাজি পেয়েছেন মাত্র ৩,৬৫১ ভোট এবং প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে তিনি চতুর্থ স্থানে। জামানতও জব্দ হয়েছে তাঁর!
অন্যদিকে, এই কেন্দ্রে একতরফা জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী বুরহানুল মোকাদ্দিম ওরফে লিটন। তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৩৩৪ ভোট। তিনি ৪০ হাজার ৬১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানাধিকারী বিজেপির সুকৃতি সরকার পেয়েছেন ৬৩,২৭৩ ভোট। তৃতীয় স্থানাধিকারী আইএসএফ প্রার্থী কুতুবউদ্দিন ফতেহি পেয়েছেন ৪৯,৭০০ ভোট। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, যে আব্দুর রহিম ওরফে দিলুকে ঘিরে ভোটের আগে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছিল ফলাফলে তাঁর প্রভাবের কোনো প্রতিফলনই দেখা গেল না। একসময় বাদুড়িয়ায় দিলুবাবুর পরিবারের যথেষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ছিল। স্থানীয় স্তরে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সংগঠন এবং সংখ্যালঘু ভোটের উপর তাঁর দখল নিয়েও বিস্তর আলোচনা ছিল। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসে। সেই দল থেকেই বিধায়ক হয়েছিলেন ২০১৬ সালে। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তিনি যোগ দেন জোড়াফুল শিবিরে। সেবারও তিনি ভোটে জিতে তৃণমূলের বিধায়ক হন। সেইসময় অনেকেই মনে করেছিলেন বাদুড়িয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি বদলে যায়। তৃণমূল তাঁকে আর প্রার্থী করেনি। তাই টিকিট না পেয়ে তিনি ফের কংগ্রেসে যোগ দেন। ‘হাত’ শিবিরের প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামেন।
কংগ্রেসের একাংশের আশা ছিল, পুরানো সংগঠন ও ব্যক্তিগত প্রভাবের জোরে অন্তত উল্লেখযোগ্য ভোট টানতে পারবেন তিনি। সেইমতো প্রচারেও ঝড় তোলেন দিলু। উগরে দেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। কিন্তু ভোটের ফল বলছে, সম্পূর্ণ অন্য কথা। বাদুড়িয়ার মানুষ কার্যত কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। রহিমের প্রাপ্ত ভোট আইএসএফ প্রার্থীর চেয়ে অনেক কম, বস্তুত কোনো তুলনাতেই আসে না। আর তৃণমূলের লিটনের চেয়ে ৯৯,৬৮৩ ভোট কম পেয়েছেন তিনি!
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফল শুধু একজন প্রার্থীর পরাজয় নয়, বরং বাদুড়িয়ায় কংগ্রেসের ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। একসময় যে কেন্দ্রকে কংগ্রেসের দুর্গ বলা হত, সেখানে এখন মূল লড়াই ঘুরছে তৃণমূল ও বিজেপিকে কেন্দ্র করে। ওইসঙ্গে আব্দুর রহিমের ফলাফল দেখিয়ে দিল, ব্যক্তিগত প্রভাবের পুরানো সমীকরণ আর আগের মতো কার্যকর নেই। এই বিষয়ে একাধিকবার ফোন করেও পরাজিত কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রহিম কাজির কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তৃণমূল বিধায়ক লিটন বলেন, এটা জনতার রায়। মানুষ আমাদের কাজে উপর ভরসা রেখেই ভোট দিয়েছেন।