রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৩৫টির মধ্যে ৩১টি ওয়ার্ডেই হার তৃণমূলের
বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে রাজপুর সোনারপুর পুরসভার প্রায় ১২টি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল বিজেপি। এবার বিধানসভা ভোটে আরও বড়ো উত্থান হল গেরুয়া পার্টির। ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩১টিতেই এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। শহর মুখ ফেরাতেই ভরাডুবি তৃণমূলের। একের পর এক ওয়ার্ডে মুখ থুবড়ে পড়েছেন কাউন্সিলাররা। কোনো ওয়ার্ডে দু’হাজার, কোনো ওয়ার্ডে তিন হাজার ভোটে হেরেছে তৃণমূল। সব থেকে শোচনীয় অবস্থা সোনারপুর দক্ষিণে। এই বিধানসভায় রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে সবক’টিতেই পর্যুদস্ত হয়েছে ঘাসফুল। এই তালিকায় খোদ পুর চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডও রয়েছে। ব্যতিক্রম সোনারপুর উত্তরের চারটি ওয়ার্ড। সেখানে তুলনামূলকভাবে ভালো লিড পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী ফিরদৌসি বেগম। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে জেতার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কাউন্সিলারদের উপর অসন্তোষ ছাড়াও পরিষেবা না পাওয়া, মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দুর্ব্যবহার ইত্যাদি কারণও রয়েছে, যে কারণে এই বিপর্যয়।
শহরাঞ্চলে যে বিজেপির শক্তি বাড়ছে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে। সেবার সোনারপুরের দুই বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে ১২টি ওয়ার্ডে লিড নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা দিয়েছিল পদ্ম পার্টি। এবার তৃণমূল সেই ধাক্কা তো কাটাতেই পারেনি, উলটে আরও ১৯টি ওয়ার্ডে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। বলা ভালো, এই দুই কেন্দ্রে একচেটিয়া ভোট পেয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল বিজেপি। গড়িয়া লাগোয়া যেসব ওয়ার্ড রয়েছে, সেখানে মাথা তুলতে পারেনি তৃণমূল। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডেও পরাজিত হয়েছে ঘাসফুল শিবির। আবাসনের ভোট থেকে নতুন ভোটার— সবাই বেছে নিয়েছে বিজেপিকে, এমনটাই দাবি তৃণমূলের।
তৃণমূল প্রার্থীর মুখ রক্ষা করেছে সোনারপুর উত্তরের চারটি ওয়ার্ড। ফিরদৌসি বেগম থাকেন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ড থেকে প্রায় তিন হাজার ভোটে লিড পেয়েছে তৃণমূল। ফিরদৌসির স্বামী নজরুল আলি মণ্ডল এই ওয়ার্ড থেকে জিতেই পুরসভার সিআইসি সদস্য হয়েছিলেন। বাকি তিনটি ওয়ার্ড হল ৭, ৮ ও ৩৩। সূত্রের খবর, বেশিরভাগ কাউন্সিলার নিজের বুথে পর্যন্ত হেরেছেন। এদিকে, শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও বিজেপি আধিপত্য কায়েম করেছে। সোনারপুর দক্ষিণে একটি বাদে সব পঞ্চায়েতেই হেরেছে তৃণমূল। সোনারপুর উত্তরে তারা জিতেছে মাত্র দু’টি পঞ্চায়েতে।