সংবাদদাতা, বজবজ: তোলাবাজি ও বাহুবলীদের ‘দাদাগিরি’ সব বন্ধ করা হবে— মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর এমনই ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার পর থেকে বজবজে শুরু হয়েছে তোলাবাজিতে অভিযুক্ত ও বাহুবলী নেতাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান। বিজেপির রাজ্যনেতা ও বজবজ বিধানসভা কেন্দ্রের ইনচার্জ হরিকৃষ্ণ দত্ত, রাজ্য মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা সবিতা চৌধুরী এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নেতা সুফল ঘাটু বলেন, দুষ্কৃতীদের অত্যাচারে গত কয়েক বছর ধরেই বজবজের মানুষ অতিষ্ঠ। বহুদিন ধরেই মানুষ অভিযোগ করছিলেন। আমাদের তাঁরা সেকথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ভয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেননি। এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করতেই বজবজ শহরে ওইসব দুষ্কৃতীদের বাড়িতে হানা দিতে শুরু করেছে পুলিশ।
হরিকৃষ্ণবাবুর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে তোলাবাজি ও দাদাগিরি চালাত। এবারও বিধানসভা নির্বাচনে অনেককে ভোট দিতে দেয়নি তারা। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে তৃণমূলের কয়েকজন পদাধিকারীও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বজবজে বিভিন্ন জ্বালানি তেল সংস্থার একাধিক ডিপো রয়েছে। সেই সব ডিপোয় তৃণমূল নেতাদের একাংশ জোরজবস্তি করেই নিজেদের গাড়ি ভাড়া খাটতেন। কেউ লেবার সাপ্লাই করতেন। কেউ আবার ইট বালি, সিমেন্ট সাপ্লাই করতেন। বিনিময়ে পেতেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এর প্রতিবাদ করলেই ডিপো বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিতেন তাঁরা। এছাড়াও জমি দখলের অভিযোগ তো আছেই। জানা গিয়েছে, এক-একজন তৃণমূল নেতার ১৭-১৮টি গাড়ি ভাড়া খাটে ওই সব সংস্থায়। এছাড়াও, এই প্রভাবশালী অংশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যা নিয়ে এতদিন পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি। কয়েকদিন আগে পুজালির এক প্রাক্তন কাউন্সিলারকে বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করে বজবজের এই সব বাহুবলী নেতাদের নাম, তাদের বেআইনি কার্যকলাপ এবং আগ্নেয়াস্ত্র লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ বজবজে অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান চালাতে শুরু করেছে। তবে তারা কেউই এলাকায় নেই বলে খবর।