• তালাবন্ধ দোকান খুলে দিল বিজেপি ফেরানো হল তৃণমূল কার্যালয়ও
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভোটের ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ তৈরি হলেও রবিবার দক্ষিণ হাওড়া, বালি ও জগৎবল্লভপুরে কিছুটা ভিন্ন ছবি দেখা গেল। কোথাও তৃণমূলের দখল হওয়া দলীয় কার্যালয় ফিরিয়ে দিল বিজেপি নেতৃত্ব, আবার কোথাও তালাবন্ধ হয়ে যাওয়া দোকান খুলে ব্যবসা চালুর ব্যবস্থা করা হল। একইসঙ্গে বিজেপির তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিরোধী দলের উপর কোনো ধরনের হিংসা বা জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভার থানামাকুয়া এলাকায় ভোটের ফল প্রকাশের পর কয়েকজন যুবক স্থানীয় একটি তৃণমূল কার্যালয়ে গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে সেটি দখল করে নেয় বলে অভিযোগ। রবিবার বিজেপির হাওড়া জেলা কমিটির সদস্য অলোক দুবের নেতৃত্বে সেই কার্যালয়ের তালা খুলে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি দেবমাল্য বসুর হাতে চাবি দিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ফল ঘোষণার পর কিছু তৃণমূল কর্মী দল পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করে ওই পদক্ষেপ করেছিলেন। তবে সংগঠনগতভাবে এই ধরনের দখল রাজনীতিকে সমর্থন করে না বিজেপি। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশেই কার্যালয় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয় নেতারা। দেবমাল্য বসু বলেন, ‘দলীয় কার্যালয় না থাকলে সংগঠন চালাতে যে কী সমস্যা হয়, তা বিজেপি নেতৃত্ব বুঝেছে বলেই এই সৌজন্য দেখিয়েছে।’ এই ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের বদলে সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মত স্থানীয় বাসিন্দাদের।

    অন্যদিকে বালির পাঠকপাড়ায় ভোটের ফল বেরনোর পর একটি সবজির দোকানের শাটারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। রবিবার বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি রাজা গোস্বামীর নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা গিয়ে সেই তালা খুলে দেন। দোকান মালিক নারায়ণ সরকার বলেন, ‘কীভাবে পরিবারের খরচ জোগাব, বুঝতে পারছিলাম না। বিজেপি নেতৃত্বকে ফোন করতেই তাঁরা এসে দোকান খুলে দেন, ফলে আবার ব্যবসা শুরু করতে পারছি।’ তবে জগৎবল্লভপুরে চিত্রটা ছিল ভিন্ন। রবিবার জগৎবল্লভপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর বুথে বহু বছর আগে দখল হয়ে যাওয়া একটি বিজেপি কার্যালয় পুনরায় নিজেদের দখলে নেয় পদ্মপার্টি। স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি মনোজ মণ্ডলের দাবি, ২০১৯ সালে তৃণমূল ওই কার্যালয়টি দখল করে সেখানে দোকান চালু করেছিল। এদিন দোকানের মালপত্র সরিয়ে কার্যালয়টি ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়। যদিও তৃণমূলের পালটা অভিযোগ, ওই পদক্ষেপে দু’টি পরিবারের রুজি-রোজগার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)