• তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সংগঠিত করেই ৫২ শতাংশ ভোট পদ্ম শিবিরের ঝুলিতে
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির যে ক’টি বিধানসভায় বিজেপি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল সপ্তগ্রাম। সাবেক বন্দর শহরে তৃণমূলকে কার্যত মাটি ধরিয়ে দিয়েছে মানুষ। সিপিএম তো বটেই, তৃণমূলের ভোটব্যাংকেও বড়ো থাবা বসিয়েছে বিজেপি। ২৩ হাজার ২৮৯ ভোটে বিজেপির স্বরাজ ঘোষ জিতলেও শতাংশের হারে তৃণমূল প্রার্থীর থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের দাবি, স্থানীয়স্তরে আগের বিধায়কের প্রতি মানুষের কিছু ক্ষোভ জমা হয়েছিল। ক্ষোভ ছিল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও। তার উপর তৃণমূল এবার বহিরাগত বিদেশ বসুকে প্রার্থী করেছিল সপ্তগ্রামে। স্থানীয় ডাকাবুকো যুবক বিজেপি প্রার্থী স্বরাজ সেইসব বিষয়কে প্রচারে এনে টেক্কা দিয়েছেন তৃণমূলকে।

    ভোটের পরিসংখ্যান বলছে, বহু বছর পর সপ্তগ্রামে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে তৃণমূলের ভোট। সাম্প্রতিক অতীতে খুব খারাপ অবস্থাতেও তৃণমূলের ভোট ৪৪ শতাংশের নীচে নামেনি। গত লোকসভা নির্বাচনে সপ্তগ্রাম বিধানসভায় তৃণমূল পিছিয়ে থাকলেও সাড়ে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তারা। আর বিজেপি সেবার পেয়েছিল ৪৫.৮১ শতাংশ ভোট। সেই ভোটকে এবার তারা বাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে ৫২.১০ শতাংশে। ২০২১ সালে সিপিএম জোটের কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছিলেন ৪.৩৪ শতাংশ ভোট। ২০২৪ সালে সিপিএমের ভোট ৬.৪৪ শতাংশে পৌঁছালেও এবার তা ফের নেমে এসেছে ৫ শতাংশের নীচে। অঙ্কের হিসাব বলছে, সিপিএমের দেড় শতাংশ আর তৃণমূলের সাড়ে চার শতাংশ ভোট বিজেপির অনুকূলে গিয়েছে। আর তাতেই বিধানসভার অর্ধেকের বেশি মানুষের সমর্থন পেয়ে জিতেছেন বিজেপির স্বরাজ ঘোষ। 

    বিষয়টি অস্বীকার করেননি স্বরাজ নিজেও। তিনি বলেন, সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে লাগাতার তৃণমূল জিতেছে। কিন্তু মানুষের সঙ্গে নেতৃত্বের যোগ ছিল না। রাজ্যের সার্বিক অপশাসনের বিরুদ্ধে তাই দলমতের থেকে বেরিয়ে গিয়ে সপ্তগ্রামের উন্নয়নের জন্য মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। সপ্তগ্রামের সার্বিক হাল বদলে দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ হবে। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান তথা ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, এসআইআর সপ্তগ্রামের নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। ওখানে একটি বড়ো অংশের মানুষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাঁদের নাম ধরে ধরে কাটা হয়েছে। সপ্তগ্রামকে ভিত্তি করেই বিরাট সংখ্যায় ফর্ম সেভেন বিজেপি জমা করেছিল। তারপরেও বলব, আমরা নির্বাচনের ফল পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছি। দেখা যাক, কী তথ্য উঠে আসে।

    স্থানীয় একাধিক সমীকরণের সঙ্গে তৃণমূলের স্থায়ী ভোটব্যাংকের উপর ভরসা করেই এই কেন্দ্রে জয় আসবে বলে ধরে নিয়েছিল ঘাসফুল শিবির। যদিও রাজনৈতিক মহলের দাবি, গত লোকসভা ভোটেই অশনি সংকেত মিলেছিল। কিন্তু লোকসভা ও বিধানসভায় পৃথক ভোট হবে ধরে নিয়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি তৃণমূল। উলটে লোকসভার সাফল্যকে হাতিয়ার করে নিবিড় জনসংযোগের কাজ করেছে বিজেপি। তাতেই ভোটের হার পঞ্চাশ শতাংশ পেরিয়ে গিয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)