• রাজ্যে বিজেপির জয়ে ন্যাড়া হয়ে মানত পালন, দাড়ি কাটলেন প্রৌঢ়
    বর্তমান | ১১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় পাওয়া নিয়ে মানত রেখেছিলেন একাধিক নেতা-কর্মী। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার গঠনের পর নানা জায়গা থেকে তাঁদের সেই মানত পালনের খবর আসছে। হিঙ্গলগঞ্জে অনেকে মিলে মাথা ন্যাড়া করে কালীপুজো করলেন, বাদুড়িয়ায় প্রায় দেড় দশক পরে চুল-দাড়ি কামালেন এক প্রৌঢ়।

    হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রের জয়ের পর রবিবার সকালে অন্য ছবি সুন্দরবনের হেমনগর এলাকার কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতে। পারঘুমটিতর মাঠে এদিন মাথা মুড়িয়ে মানত পালন করলেন ১০ জনের মতো কর্মী। কালীপুজোও করলেন তাঁরা। স্থানীয় বিজেপি কর্মী নিতাইপদ রায়ের কথায়, এই দিনটার জন্য অনেক বছর অপেক্ষা করেছি। এই অপেক্ষার পিছনে রয়েছে ২০১১ সালের এক রাতের আতঙ্কের স্মৃতি। নিতাইপদের কথায়, ২০১১ সালের ২ জুলাই হামলা চালায় তৃণমূল। অপরাধ ছিল, আমি বিজেপি করি। আক্রান্ত হয় ছেলে দীনবন্ধুও। প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন বাবা-ছেলে দু’জনেই। তারপর সুন্দরবনের জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে গভীর রাতে কোনওরকমে বাড়ি ফেরেন তাঁরা। নিতাইপদ বললেন, এই ঘটনার পরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। তখনই মানত করেছিলাম, একদিন বিজেপির সরকার হলে মাথা মুড়িয়ে মা কালীর পুজো দেব। এদিন তাই করলাম। শুধু নিতাইপদ নন, তাঁর সঙ্গে মাথা মুড়িয়েছেন এলাকার আরও বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক। পুজোর পরে চলে প্রসাদ বিতরণও। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘদিনের ‘সন্ত্রাসের রাজনীতি’র অবসান ঘটেছে। তবে তৃণমূলের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 

    অন্যদিকে, বাদুড়িয়ার রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বছর ৬৩ আশুতোষ পাল (তুলসী) প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত নিজের চুল-দাড়ি কামাবেন না। সেই অনুসারে দীর্ঘ ১৫ বছর পর নিজের চুল ও দাড়ি কামালেন তিনি। ছোট থেকেই শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী রামচন্দ্রপুর এলাকায় লরিচালক সংগঠনের এক সময়ের সম্পাদক তিনি। ২০১১ সালে বাম সরকারের পতনের কিছুদিন আগে শেষবারের মতো তিনি দাড়ি কামিয়েছিলেন। তাঁর মতে, তৃণমূলের অপশাসন ও অত্যাচারে শ্রমিক স্বার্থ লুণ্ঠিত হয়েছে। তারই নিঃশব্দ প্রতিবাদ ছিল এই চুল-দাড়ি না কামানো। রামচন্দ্রপুর বাজারে তার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। এদিন প্রায় তিনশো দলীয় কর্মীর উপস্থিতিতে তিনি নিজের চুল-দাড়ি কামালেন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে ব্যবস্থা করা হয়েছিল খিচুড়ির।

    তাঁর বাল্যবন্ধু মোশারেফ মণ্ডল বলেন, আশুতোষ ছোট থেকেই বামপন্থী। আমরা অনেকবার ওকে অনুরোধ করেছিলাম চুল দাড়ি কামানোর জন্য। কিন্তু ও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। কিন্তু আজকে ওঁকে দেখেই আমরা আবার দল করার সাহস পাচ্ছি। এদিন চুলদাড়ি কামানোর পর গলায় সিপিএমের উত্তরীয় ও ফুল, মিষ্টি দিয়ে আশুতোষবাবুকে শুভেচ্ছা জানান বাম নেতা রবিউল হক, শরিফুল ইসলাম ও ক্ষিতীশ মণ্ডলরা। 
  • Link to this news (বর্তমান)