এই সময়, জলপাইগুড়ি: রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই উত্তরবঙ্গের ন'টি জায়গায় রেলওয়ে ওভারব্রিজ (আরওবি) এবং রেলওয়ে আন্ডারব্রিজ (আরইউবি) তৈরির কথা ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক। এই কাজের জন্য সবমিলিয়ে ৭৫০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করেছে রেল। যে যে এলাকায় আরওবি ও আরইউবি তৈরির কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত জলপাইগুড়ি শহরের তিন নম্বর গুমটির নাম রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে কোচবিহারের হলদিবাড়ির গুমটিও। রেলের এই ঘোষণার পরেই উচ্ছ্বসিত জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়। তাঁর দাবি, 'নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পরেই রেলের এই ঘোষণা। এটাকে উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য কেন্দ্রের উপহার বলা যেতে পারে।'
রানিনগর জংশন থেকে জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন হয়ে হলদিবাড়ি যাওয়ার রেললাইন জলপাইগুড়ি শহরকে কার্যত দু'ভাগে ভাগ করেছে। সারাদিনে একাধিক বার ট্রেন যাওয়ার কারণে শহরের প্রধান রাস্তা কদমতলা থেকে পাণ্ডাপাড়া মেইন রোডে থাকা তিন নম্বর গুমটির রেলগেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সমস্যার পড়েন সাধারণ মানুষ। একই অবস্থা হলদিবাড়িতেও। যে কারণে এই দুই রেল গুমটিতে ওভারব্রিজ বানানোর দাবি বারবার উঠছিল। সাংসদ জয়ন্তর কথায়, 'সাধারণ মানুষের এই সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক আগে রেল মন্ত্রকের কাছে দাবি করা হয়েছিল। রেলের তরফে সমীক্ষাও করা হয়। কিন্তু তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতার জন্য কোনও কাজ করা যাচ্ছিল না।' তিনি বলেন, 'জলপাইগুড়ির ঠাকুরনগরে আরওবি তৈরিতে রেল টাকা বরাদ্দ করলেও পূর্বতন সরকারের অসহযোগিতায় জমি চেয়েও মেলেনি। তাই নতুন করে আরইউবি ও আরওবির জন্য রেল অর্থ বরাদ্দ করছিল না। সরকার বদল হতেই এ বার করে দেওয়া হলো।' যদিও জেলা তৃণমূল সহ-সভাপতি তপন বন্দোপাধ্যায় বলেন, 'জমি না-দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। জলপাইগুড়ি পুরসভার (তৃণমূল পরিচালিত) তরফে বহুদিন আগে থেকেই শহরের ওই রেল গুমটিতে আন্ডারপাস তৈরির দাবি করা হচ্ছিল।'
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে খবর, কাটিহার ডিভিশনের জলপাইগুড়ি এবং হলদিবাড়ি শহরের রেল গুমটি ছাড়াও শীতলপুর-ইসলামপুর, গুঞ্জরিয়া-আলুয়াবাড়ি, রায়গঞ্জ-বামনগ্রাম, কালিয়াগঞ্জ-ডালিমগাঁও রুট-সহ মোট ন'টি জায়গার নাম রয়েছে আরওবি-আরইউবি তৈরির লিস্টে। এতে যানজট থেকে শুরু করে মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা মিটবে বলে আশাবাদী সব মহল।